কর্মজীবী নারীদের জন্য দ্রুত রান্না করার কিছু সহজ টিপস

কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রতিদিন রান্না করার সবজি কাঁটা,মাছ কাঁটা,মসলা বাটা,ম্যারিনেট করা ও ভাজা ইত্যাদি কাজ অত্যন্ত কষ্টকর ও সময়সাপেক্ষ। তাই ছুটির দিন বা অবসর সময়ে কিছু কিছু কাজ আগে থেকে করে রাখলে একদিকে যেমন প্রতিদিনের কাজের ঝামেলা থাকেনা তেমনি রিলাক্সেও  থাকা যায় পাশাপাশি বাচ্চা ও পরিবারের সাথেও সময় কাটানো যায়। তাহলে চলুন জেনে নিই দ্রুত রান্না করার কিছু সহজ ও প্রয়োজনীয় টিপস।  

পূর্বপরিকল্পনা:

শুরুতে ২/৩ দিনের বা পুরো এক সপ্তাহের জন্য কি কি রান্না করবেন তার একটি পরিকল্পনা বা মেনু তৈরি করে সে অনুযায়ী বাজার করে নিন। কারণ আগে থেকে পরিকল্পনা করে বাজার করলে কি রান্না করবেন সেটা নিয়ে পরে আর চিন্তা করতে হয়না।  

ম্যারিনেট:

মাছ-মাংস সব একদিনে কেঁটে ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। তারপর সেগুলো মসলা দিয়ে ম্যারিনেট করে ২/৩ দিনের বা এক সপ্তাহের পরিমাণে রান্নার জন্য ছোট ছোট বক্সে করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। এরপর যেদিন রান্না করবেন সেদিন ফ্রিজ থেকে নামিয়ে ঝটপট কষিয়ে রান্না করে ফেলুন। এই টিপস অনুসরণ করলে রান্নার সময়ে কাঁটা-কাঁটি  এবং পরিষ্কার করার কোনো ঝামেলা থাকেনা ও দ্রুত রান্না করা যায়।

গরম পানি ব্যবহার:

রান্না শুরুর আগেই চুলায় একটি বড় হাড়িতে পানি গরম করে রাখুন। কারণ রান্নায় গরম পানি ব্যবহার করলে একদিকে যেমন খাবারের স্বাদ বজায় থাকে তেমনি রান্নাও খুব দ্রুত হয়ে যায়।

কৌটায় লেবেল ব্যবহার:

রান্নাঘরের সমস্ত চাল,ডাল,মসলা মোটকথা সবকিছুর কৌটার উপর লেবেল ব্যবহার করতে পারেন। শুরুতে এই কাজটাকে ভীষণ ঝামেলা মনে হলেও পরবর্তীতে অনেক উপকার পাবেন কারণ কোন কৌটায় কি আছে সেটা খুঁজতে আপনাকে আর সময় নষ্ট করতে হবেনা।

শাক-সবজি সংরক্ষণ:

এক সপ্তাহ বা ২/৩ দিনের জন্য কি কি রান্না করবেন সে অনুযায়ী শাক-সবজি আগে থেকে কেঁটে ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর ভালো এয়ার টাইট বক্সে করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। পেঁয়াজও বেশি করে কেঁটে একই উপায়ে বক্সে করে ফ্রিজে রাখতে পারেন। কাঁচা মরিচের বোটা, ধনে পাতার গোড়া ফেলে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখুন, এতে করে রান্নার সময় কুটা বাছার কোনো ঝামেলা থাকবেনা এবং  আপনার অনেক সময় বেঁচে যাবে।

আদা-রসুন সংরক্ষণ:

আদা-রসুন ও পেঁয়াজ পুরো এক মাসেরটা একসাথে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এক সপ্তাহের পরিমাণে নরমালে রাখতে চাইলে সাথে সামান্য লবণ মিশিয়ে রাখুন এতে করে ভালো থাকবে তবে রান্নার সময় লবণ একটু কমিয়ে দিতে হবে ।

টিফিন বা ফ্রোজেন নাস্তা সংরক্ষণ:

হঠাৎ অতিথি আপ্পায়নের জন্য বা সকালে বাচ্চার টিফিনের জন্য আগে থেকে কিছু ফ্রোজেন খাবার তৈরি বা সুপার শপ থেকে কিনে এনেও ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন। যেমন- ছমুচা, সিঙ্গারা, নাগেটস, চিকেন ফ্রাই, কাবাব, ফ্রোজেন পিজ্জা ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখলে পরে যখন প্রয়োজন হবে তখন নামিয়ে ভেজে নিতে পারবেন।

পিউরি বা সস সংরক্ষণ:

তেঁতুল, চিলি, টমেটো ইত্যাদি সস, সয়া ‍সস, ভিনেগার, টমেটো পিউরি, কনফ্লাওয়ার সব সময় বাসায় তৈরি করে বা দোকান থেকে কিনে এনেও রাখতে পারেন, কারণ এগুলো দ্রুত রান্নায় সহায়তা  করে।

রুটির ডো তৈরি:

সকালের নাস্তার জন্য রুটি তৈরির আটার ডো আগে থেকে বানিয়ে ফ্রিজে এয়ার টাইট বক্সে বা প্যাকেটে করে ২/৩ পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন। এতে করে সকালে নাস্তা তৈরিতে ঝামেলা একটু কম হয়।

স্মার্ট গ্যাজেট ব্যবহার:

 

আজকাল কুটা-কাটি এবং সংরক্ষণের জন্য অনেক ভালো এয়ার টাইট বক্স ও কাটার যন্ত্র পাওয়া যায়,সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচে তেমনি অপচয়ও কম হয়।

কর্মজীবী নারীরা যদি প্রত্যেকেই এভাবে একটু পরিকল্পনা করে ও প্রতিটি টিপস অনুসরণ করে কাজ করেন তাহলে পুরো সপ্তাহ অনেক আরামে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারবেন।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: