নক্ষত্রবাড়ী ঘুরতে যেতে চান, তাহলে জেনে নিন এই চমকপ্রদ স্থানটি সম্পর্কে

শহরের ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আজকাল সবাই সুযোগ পেলেই ছুটির দিনগুলোতে ঘুরতে যেতে  চায়।তাই যারা শহরের কাছাকাছি কোন মনোরম দৃশ্যমাখা  গ্রামীণ পরিবেশে  ঘুরতে যেতে চান তারা অবশ্যই নক্ষত্রবাড়ি যেতে ভুলবেন না। এখানে সবসময় ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনা থাকে। দেশের রাজধানীসহ  প্রায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই স্থানটি। তাই প্রকৃতিকে যদি খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চান তাহলে আপনিও চলে যেতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত ‘নক্ষত্রবাড়ী’।

নক্ষত্রবাড়ি :

নক্ষত্রবাড়ি গাজিপুরে অবস্থিত সব বেসরকারী রিসোর্টগুলোর মধ্যে অন্যতম । মনোরম সৌন্দর্যে ঘেরা এই স্থানটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরে এই রিসোর্টি অবস্থিত।প্রায় ১৪ বিঘা জমির উপর এটি নির্মাণ কর হয়।এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর।

 

প্রতিষ্ঠাতা :

জনপ্রিয় অভিনেতা ও অভিনেত্রী  তৌকির আহমেদ ও বিপাশা হায়াত দম্পতি ঢাকার খুব কাছাকাছি একটি রিসোর্ট বানানোর কথা চিন্তা করেন। আর সে চিন্তা থেকেই নির্মাণ করেন প্রকৃতিপ্রেমীদের সব ধরনের সুযোগ ও সুবিধা সম্বলিত এ রিসোর্ট।

বৈশিষ্ট্য :

এই রিসোর্টটির অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত ১১টি কটেজ যেগুলো পুকুরের পানির উপর কাঠ ও বাশ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে।এসব কটেজে থাকার অন্যরকম মজা আছে। এখানে বসে আপনি শুনতে পাবেন ব্যাঙ ও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, দেখতে পাবেন জোনাকির আলো ছড়ানো টিপটিপ বাতি জ্বলা-নিভা।কটেজগুলোর উপর রয়েছে ছনের ছাউনি। কটেজগুলো নির্মাণ করা হয়েছে পুকুরের পশ্চিম পাশে আর পূর্ব পাশে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের দরজা – জানালা সম্বলিত একটি ঘর।আরো একটু পূর্ব দিকে রয়েছে একটি সুইমিং পুল । আরো রয়েছে একটি বিল্ডিং কটেজ ও একটি কনফারেন্স রুম।এখানে নানা প্রজাতির গাছ পালাও রয়েছে।

অথিতি আপ্যায়ন :

অথিতিদের আপ্যায়নের জন্য সার্বক্ষণিক ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তারা অথিতিদের সেবায় সর্বদা নিজেদের ব্যস্ত রাখেন।এখানে বেড়াতে আসা অথিতিদের সব সময় সব ধরনের সেবা দেওয়ার জন্য নক্ষত্রবাড়ী কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করে থাকেন । রিসোর্টের ভিতরেই আছে উন্নতমানের খাবার হোটেল আর এখানে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই ও কন্টিনেন্টাল সব ধরনের খাবারই পাবেন।

প্রবেশ মূল্য ও কটেজ ভাড়া :

নক্ষত্রবাড়ীতে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি লাগবে ৫০০ টাকা।যারা পানির উপর বাসের কটেজগুলোতে থাকতে চান সেক্ষেত্রে ১দিনের ভাড়া হচ্ছে ১০৭৫২ টাকা।এছাড়া বিল্ডিং কটেজগুলোর প্রতিদিনের ভাড়া হচ্ছে কাপলবেড ৮২২২ টাকা এবং টু-ইন বেড ৬৯৫৮ টাকা।

যেভাবে নক্ষত্রবাড়ী যাবেন :

নিজস্ব পরিবহনে সরাসরি চলে যেতে পারেন অথবা যাত্রীবাহী বাসে করে যেতে চাইলে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের রাজাবাড়ী বাজারে নামতে হবে।এখান থেকে নক্ষত্রবাড়ীর দুরত্ব হচ্ছে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে কাপাসিয়া-শ্রীপুরের সীমানা বেষ্টিত চিনাশুখানিয়া গ্রামের বাঙ্গালপাড়া এলাকায় ।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: