প্রতিনিয়ত অ্যালো ভেরার রস খেলে যে সকল উপকারিতা পাওয়া যায়

ত্বকের সৌন্দর্য  বর্ধনে অ্যালো ভেরার রস অনেক কার্যকরী ।যুগ যুগ ধরে ত্বকের যত্নের পাশাপাশি শারীরিকি উপকারেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি কার্যকারিতা অপরিসীম । মানব দেহে ক্যান্সার সহ নানাবিধ মরন ব্যাধির প্রকোপ বর্তমানে যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে করে অ্যালো ভেরার রস খাওয়া প্রতিটি মানুষের জন্য ভীষণ প্রয়োজন তাতে কোন  সন্দেহ নেই ।

 

প্রতিনিয়ত আমাদের দেহে নানাবিধ কনিক ডিজিজ বাসা বাধছে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে পরিবেশ দূষণ।এই পরিবেশ দূষণের কারণে একদিকে যেমন হচ্ছে ফুসফুসের নানা ব্যাধি তেমনি অনিয়ন্ত্রিত জীবন, মাদক দ্রব্যের প্রতি আকর্ষণ  এবং অস্বাস্থকর খাবার দাবার থেকে  দেহে  বাসা বাধছে কোলেস্টেরল, কার্ডিওভাসকুলার, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো নানাবিধ রোগ । এসকল ভয়ঙ্কর রোগ ব্যাধি থেকে যদি দুরে থাকতে চান তাহলে অ্যালো ভেরার সাথে বন্ধুত্ব করুন ।

প্রাচীনকালের লেখা সকল আয়ুর্বেদ গ্রন্থের ইতিহাসে দেখতে পাবেন, সে সময়ে নানাবিধ জটিল রোগের চিকিৎসায় অ্যালো ভেরার রস ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ্ ভুমিকা পালন করে আসছে । অ্যালো ভেরার রস ব্যবহারে নানাবিধ উপকারিতার আলোচনা করা হলো । প্রতিনিয়ত অল্প করে অ্যালো ভেরার রস খাওয়ার ফলে দেহে যে সকল উপকারিতাগুলো উপলব্দি করবেন সেগুলো  হল…

১. মিনারেল ও ভিটামিনের ঘাটতি দুরীকরনে :

বেশ কিছু পর্যবেক্ষনে দেখা যায় যে প্রতিনিয়ত অ্যালো ভেরার রস খেলে দেহের প্রয়োজনীয় মিনারেল ও ভিটামিনের অভাব দুর হয় । একই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাবও পূরণ হয় ।অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হল মানব দেহের এমন একটি উপাদান যা শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে অপরিসীম ভুমিকা পালন করে । এক্ষেত্রে যদি আমলকি, করলা অথবা তুলসির রসের সঙ্গে অ্যালো ভেরার রসকে মিক্সড করে খাওয়া যায় তাহলে আরও বেশি উপকার পাওয়া যায় ।

 

২. হজম শক্তি বৃদ্বি করনে:

এই প্রাকৃতিক উপাদানটির রস দেহের ভিতরে প্রবেশ করার পর পাচক রসের ক্ষরন এতটাই বাড়িয়ে দেয় যে বদ হজমের মতো রোগ ধারে কাছেও আসতে পারে না । এটি অ্যাসিডিটি,  গ্যাস-অম্বল এবং কনস্টিপেশনের সমস্যা কমাতে সাহায্যে করে ।সুতরাং খাদ্যরসিকদের জন্য অ্যালো ভেরার রসের কোন বিকল্প নেই ।

 

৩. শরীর থেকে  বিষাক্ত উপাদান দুরীকরনে:

প্রতিদিন খালি পেটে এই রস খেলে দেহের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টর পরিমান বৃদ্বির সাথে সাথে শরীরে জমতে থাকা টক্সিক উপাদান বের হয়ে যায়, যা  প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্বিতে সহায়তা করে ।

৪. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে:

আমাদের দেশে অধিকাংশ মহিলা ও শিশুরা অ্যানিমিয়ায় ভুগছে । এমন অবস্থায় অ্যালো ভেরা পাতার রস খাওয়ার প্রয়োজন যে বেড়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারন এই  প্রাকৃতিক উপাদানটিতে যে একাধিক উপকারি উপাদান থাকে তা দেহের ভিতরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়তে থাকে, ফলে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ নিমিষেই কমে যায়।

 

৫. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দূরীকরনে :

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিনিয়ত এই উপাদানটির রস খাওয়ার ফলে দেহের ভিতরে এমন কিছু পরিবর্তন শুরু হয়, যার ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দুর হয় ।এমকি এই রস প্যানক্রিয়াস সংক্রান্ত নানা রোগের সমস্যা দুরীকরনে সহায়তা করে ।

 

৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে:

প্রতিনিয়ত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহন করার ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাইশক্তিশালী হয়ে ওঠে যে সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ছোট-বড় যে কোন ধরনের অসুখ বিসুখ ধারে কাছে আসতে পারে না এবং সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায় ।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: