বারান্দার টবে বা ছাদে অর্কিড রোপন করতে চান তাহলে জেনে নিন এর চাষের পদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে

দেশে-বিদেশে প্রায় সবখানেই অর্কিডের জনপ্রিয়তা প্রচুর। গৃহ সজ্জা ও ঘরের সৌন্দর্য্ বৃদ্ধিতে অর্কিডের কোন তুলনা হয় না।এর বিচিত্র রং ও সৌন্দর্য্ খুব সহজে সকলের মন কাড়ে। শীত প্রধান দেশ থেকে শুরু করে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার দেশেও এর বংশ বিস্তার হয়ে থাকে। প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি  প্রজাতির অর্কিড রয়েছে  যেগুলোর একটি থেকে অন্যটির  আকৃতি, রং, ঘ্রাণ, ঔষধি গুণাগুণ ও স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ্ আলাদা। তাই যারা অর্কিড ভীষণ ভালোবাসেন  তারা জেনে নিতে পারেন কিভাবে অর্কিড চাষ ও পরিচর্যা করতে হয়।

যে ধরনের অর্কিড চাষের জন্য উপযুক্ত :

বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড থাকলেও আমাদের দেশের আবহাওয়ায় সব ধরনের অর্কিড চাষ উপযুক্ত নয়। অর্কিড সাধারনত দুধরনের হয়ে থাকে যেমন- এপিফাইটিক বা পরজীবী এবং টেরেস্ট্রিয়াল বা যেগুলো মাটিতে জন্মে। তাই টেরেস্ট্রিয়াল অর্কিডই ছাদে ও বারান্দার টবে চাষের জন্য উপযুক্ত। তবে নার্সারী থেকে গাছ কেনার আগে অবশ্যই জেনে নিবেন ঐ গাছটি ঘরে  চাষ করার জন্য উপযুক্ত কিনা।

গাছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে যা করতে হবে :

যেসব অর্কিড ফুলের স্থায়িত্ব বেশিদিন,তাড়াতাড়ি ফুল ফুটে এবং যত্ন ও পরিচর্যা করা খুবই সহজ সেসব গাছ লাগাবেন। তবে চাইলে আপনি কারো সাহায্য নিতে পারেন যার নিজের অর্কিড বাগান আছে বা ভালো কোন নার্সারিতে গিয়েও কথা বলতে পারেন, যেমন- ধানমন্ডি,ফার্মগেট, খামারবাড়ি, আগারগাও, মিরপুর২, কিংশুক ও সাভার সহ ঢাকার বিভিন্ন নার্সারিতেই যোগাযোগ করতে পারেন।

অর্কিডের টব বা ঝুড়ির আকৃতি :

আজকাল মানুষের কাছে অর্কিড গাছের জনপ্রিয়তা অনেক বাড়ছে তাই বাজারে এখন অর্কিডের জন্য বিশেষভাবে তৈরি আলাদা টব পাওয়া যায় যেগুলো দেখতে ভীষণ আকর্ষণীয়। আপনি চাইলে  বাজার থেকে কেনা এসব টব বা পাত্রও ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া যেসব টবের গায়ে ফাকা জায়গা থাকে এমন মাটির টব বা ঝুলন্ত প্লাষ্টিকের ঝুড়িতে অর্কিড লাগালে সহজে মরে না। অর্কিড  লাগানোর টব বা ঝুড়ি কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি গভীর হতে হবে এবং অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার জন্য অবশ্যই ছিদ্র থাকতে হবে।

যেভাবে তৈরি করতে হবে টব ও ঝুড়ির মাটি :

এক্ষেত্রে টবের একদম নিচে কাঠের ছোট ছোট টুকরা, কিছু কয়লা বা ঝামা ইট দিতে হবে এবং কয়লার উপর ছোট ছোট নুড়ি পাথর, সুরকি বা ইটের খোয়া দিলেও চলবে। তারপর বাকি অংশ নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ভরাট করে এর উপরে মাটি ও জৈব সারের মিশ্রণ দিতে হবে। তবে নারকেলের ছোবড়া ছাড়াও আম কাঠের গুঁড়া বা আম গাছের শুকনো ছাল, মোটা বালি,শুকনো গোবর এবং কিছু শুকনো মসও ব্যবহার করা যেতে পারে।

এভাবে টব বা ঝুড়িতে মাটি তৈরি করে এর মধ্যে অর্কিডের চারা লাগাতে হবে তবে উপরে অবশ্যই ৩/৪ ইঞ্চি ফাকা জায়গা রাখতে হবে। গাছের গোড়ায় ও শিকড়ে যেন খুব সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে সেজন্য অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন নারকেলের ছোবড়া ও ইটের খোয়া খুব বেশি চেপে না থাকে। তবে সবচেয়ে ভাল হয় যদি টব বা ঝুড়িতে আগে গাছ বসিয়ে তারপর এসব উপকরণ দিয়ে মাটি ভরে দেয়া যায়।

অর্কিডের যত্ন ও পরিচর্যায় করণীয় :

*যে ঘরে অর্কিড রাখবেন সে ঘরে অবশ্যই পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ভোর বেলার প্রথম রোদটি অর্কিডের জন্য ভীষণ উপকারী।

*সপ্তাহে মাত্র ২ দিন স্প্রে করে পানি দিতে হবে। কারণ পানি বেশি দিলে অর্কিড গাছ মরে যেতে পারে।

*অর্কিড গাছের মোটা শিকড় ও পাতার পানি এবং সার ধরে রাখার ক্ষমতা আছে। তাই গাছের টবে যাতে কোনভাবেই পানি জমে না থাকে অবশ্যই সেটা খেয়াল রাখতে হবে।

*কড়া রোদ বা অতিরিক্ত ছায়া অর্কিড চাষের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয় তাই গাছ রাখার জন্য এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে যাতে করে গাছে সরাসরি কড়া সূর্যের আলো না পড়ে।

*যেসব পাতায় পোকার উপদ্রব হবে সেগুলো কেটে ফেলে দিতে হবে। পিপড়া বা মাকড়সার আক্রমন হলে সামান্য সাবান পানি স্প্রে করে দিতে হবে।

*গাছের গোড়ায় প্রতি মাসে একবার চা-চামচের আধা চামচ সুফলা সার দু’লিটার পানির মধ্যে গুলে সামান্য পরিমাণে দিতে হবে। তবে গাছে যদি ফুল থাকে তাহলে সার দেওয়া যাবেনা এবং ফুলে সরাসরি পানি দেওয়া যাবেনা, তাহলে ফুল পঁচে যাবে।

*২-৩ বছর পরে অর্কিড গাছের টবে বা পাত্রে দেয়া সবকিছুর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। তাই প্রতি ২/৩ বছর অন্তর পাত্রের সবকিছু পরিবর্তন করে ফেলতে হবে।

আর যারা প্রকৃতিপ্রেমী এবং ভ্রমণ করতে পছন্দ করেন তারা চাইলে অর্কিডের অপরূপ সৌন্দর্য  উপভোগ করতে ঘুরতে যেতে পারেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামে। এখানে প্রায় ১১ একর জমির উপর অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম অর্কিড ফার্মটি  যেখানে গেলে দেখতে পাবেন সাত জাতের প্রায় একুশ ধরনের মোট তিন লাখেরও বেশি অর্কিড গাছ যা আপনার মন কেড়ে নিবে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: