মেদ কমাতে বেল্ট বা ভাইব্রেটর কি সত্যিই কাজ করে

আজকাল ওজন কমাতে অনেকেই বাজারে পাওয়া অনেক ধরণের স্লিম বেল্ট ব্যবহার করে থাকেন। যারা এখনো স্লিম বেল্ট ব্যবহার করেন নি, তাদের মধ্যে একটি প্রশ্ন সব সময় উঁকি দেয়, সত্যিই কি এসকল স্লিম বেল্ট কাজ করে থাকে? ব্যবহার করলে মেদ কমবে তো? কিভাবে ব্যবহার করতে হবে এসব বেল্ট? কত সময় ব্যবহার করতে হবে? তাহলে চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।

পেটের মেদ কমাতে বেল্ট বা ভাইব্রেটর :

পেটে মেদ বা ভুড়ি হলে চলাফেরা করতে যেমন কষ্ট হয়, তেমনি সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা খুব বেশি মোটা না কিন্তু পেটে প্রচুর মেদ জমায় ভীষণ অস্বস্তি বোধ করেন। ভালো কোনো ড্রেস পড়লেও দেখতে ভালো লাগে না।

অনেকে কত কিছুইনা করে থাকেন শরীরের এই বাড়তি মেদ কমাতে। কেউ ডায়েট কন্ট্রোল করে থাকেন, কেউ আবার বিভিন্ন ব্যায়াম করে থাকেন, কেউবা জিমে যান। আজকাল আবার দেখা যায় কিছু কোম্পানি বিভিন্ন বেল্ট বের করেছে পেটের মেদ কমাতে। এগুলোর মধ্যে কোনটা নরমাল বেল্ট, কোনোটায় ঘাম ঝরে আবার কোনটা ভাইব্রেট সৃষ্টি করে থাকে।

মেদ কমাতে বেল্ট কতটুকু কার্যকরী :

স্লিম বেল্ট বা ভাইব্রেটিং বেল্ট ব্যবহারের ফলে সরাসরি মেদ কমে যায়, এরকম কোনো বিজ্ঞানসম্মত  প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এধরণের বেল্ট মেদ কমানোর ক্ষেত্রে সরাসরি কাজ না করলেও এগুলো ব্যবহারে কিছু সুফল পাওয়া যেতে পারে, তবে তা অন্য কারণে, বেল্ট ব্যবহারের কারণে নয়।

সেই কারণটা কি ?

> মেদ কমানোর এসব বেল্ট ব্যবহারের ফলে পেটের পেশী আঁটসাঁট থাকে। ফলে পোশাকের নিচে এই বেল্ট বাঁধা থাকলে পেটের মেদ খুব বেশি বোঝা যায়না।

> পাকস্থলীর ওপর কিছুটা চাপ বেশি থাকে এই বেল্ট পরে থাকলে, ফলে আপনি ইচ্ছা করলেও বেশি খাবার খেতে পারবেন না বরং অন্য সময়ের চেয়ে খাবার কিছুটা কম খাবেন। এতে করে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ হবে যা মেদ কমতে সাহায্য করবে। এর মানে খাদ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ওজন কমছে, বেল্টের কারণে নয়।

> বেল্ট ব্যবহারের কারণে পেটে ঘাম হয়ে থাকে ফলে কিছুটা হালকা লাগে। তবে মেদ গলে ঘাম হয়েছে এটা কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত নয়।

> ভাইব্রেটর বেল্ট ব্যবহারের ফলে পেটের পেশিতে কম্পন সৃষ্টি হয়, ফলে পেটের থল থলে ভাবটা থাকে না এবং পেটের পেশি অনেকটা শক্ত হয়। তবে মেদ কমানোর জন্য যেসব কার্যকরী ব্যায়াম রয়েছে, ভাইব্রেট বেল্টের যান্ত্রিক কম্পন সেগুলোর মতো কার্যকর নয়।

তাই আপনি চাইলে স্লিম বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন, তবে মেদ কমাতে এটি সরাসরি কাজ করবে না। কারণ কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ ও ক্যালোরি ক্ষয় করা ছাড়া ওজন কমানো টা সত্যিই অনেক দুষ্কর। আর সেজন্য সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম বা হাটাহাটি করা।

সাবধানতা অবলম্বন :

* এই বেল্ট ব্যবহারে অনেক সময় ঘামের কারণে পেটের ত্বকের ক্ষতি হয়।

* এমনকি এলার্জি জনিত সমস্যায়ও ভুগতে পারেন এই বেল্ট ব্যবহারের কারণে।

* বেল্টের গরমে আপনার পেটের ত্বক নষ্ট তো হবেই এমনকি আপনিও বিরক্ত বোধ করবেন গরমে।

সুতরাং অবশ্যই মেদ কমাতে এধরণের যেকোনো বেল্ট ব্যবহারের পূর্বে এর ভালো – মন্দ দিকগুলো জেনে নেয়া দরকার।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: