স্থায়ীভাবে ব্রণের চিকিৎসায় কার্যকরী ঔষধ

ব্রণ হল ত্বকের একটি সাধারণ সমস্যা। টিনএজ বয়সে প্রায় প্রত্যেকেরই কমবেশি ব্রণ হয়ে থাকে, যেকারণে টিনএজদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। ত্বক অতিরিক্ত অইলি হলে এবং মৃত কোষের মাধ্যমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ সৃষ্টি হয়। শরীরের কিছু কিছু স্থানে যেমন – মুখ, ঘাড়, গলা, বুক এমনকি বাহুতেও ব্রণ হয়ে থাকে। যদিও ব্রণের কারণে স্বাস্থ্যগত তেমন কোনো ঝুঁকি থাকেনা, তবে ত্বকে স্থায়ীভাবে গর্ত তৈরি করে এটি ফলে মানুষের স্বাভাবিক সোন্দর্জ নষ্ট হয় যা মানুষের ব্যক্তিত্ব অনেক কমিয়ে দেয় এবং মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তাই ব্রণ যাতে স্থায়ীভাবে ত্বকের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রণের চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরী।

ব্রণের ভিন্নতা :

ব্রণ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে এবং একেকজনের ত্বকে এক একরকম ব্রণ হয়ে থাকে। যেমন –

*WHITEHEADS:

সাধারণত ত্বকের লোমকূপে এই ব্রণগুলো তৈরী হয় এবং এগুলো ত্বকের বিভিন্ন স্তরে ঢেকে থাকে। এগুলো চাপ দিলে সাদা সাদা শাস বের হয়ে আসে।

* BLACKHEADS:

এই ব্রণগুলো দেখতে কালো হয় কারণ এগুলো ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত থাকে। মূলত ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত লোমকূপে এগুলো হয়ে থাকে।

* PAPULES :

এগুলো দেখতে ছোট ছোট ঘামাচির মতো যা মূলত ঝলসে যাওয়া লোমকূপ থেকে সৃষ্টি হয়।

* Pustules:

এগুলো আকারে ছোট এবং সাদা পুঁজ দেখা দেয় এগুলোর মুখে। এধরণের ব্রণ সাধারণত ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে।

* Noudules:

এধরণের ব্রণ সাধারণত শক্ত ও বেদনাদায়ক হয় এবং ত্বকের বাইরে এসে এগুলো ফুলে উঠে।

* Cysts:

ত্বকের অত্যন্ত গভীর থেকে এই ব্রণগুলো তৈরী হয়। এগুলো দীর্ঘদিন ত্বকে জমে থাকে এবং মাঝে মাঝে পুঁজ হয় যা প্রচন্ড ব্যাথা সৃষ্টি করে।

কি কারণে ব্রণ তৈরী হয়

বিভিন্ন কারণে ত্বকে ব্রণ দেখা দিতে পারে। আমাদের ত্বকের উপরিঅংশে মূলত লোমকূপের সাথে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে। যখন অতিরিক্ত তৈল ও ময়লা দ্বারা এই ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায় তখন ত্বকে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হয় যার ফলে ব্রণ দেখা দেয়। আমাদের ত্বকের প্রতিটি Pores লোমকূপের মাধ্যমে Sebaceous (তৈল গ্রন্থি )এর সাথে যুক্ত। এই গ্রন্থির কাজ হচ্ছে ত্বককে নরম ও কোমল রাখা, কিন্তু এই গ্রন্থির অতিরিক্ত তৈল নিঃসরণের ফলে ত্বক বেশি তৈলাক্ত হয় যেকারণে ত্বকে বেশি ময়লা জমা হয়।  এর ফলে ত্বকে ব্রণের সৃষ্টি হয়। এমনকি বংশগত কারণে যেমন পিতা -মাতার মুখে ব্রণ থাকলে সন্তানের মুখেও ব্রণ হতে পারে। এছাড়া নিমোক্ত কারণেও ব্রণ হয়ে থাকে –

* কিছু কিছু ঔষধ সেবনের ফলে ত্বকে ব্রণ হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় তাই ব্রণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

* ত্বক বেশি ঘষলে বা অতিরিক্ত স্ক্রাবিং করলে ব্রণ হতে পারে।

* ব্রণ খুঁটলে ত্বকের চারিপাশে ব্রণ ছড়িয়ে যেতে পারে।

* অপরিষ্কার কিছু দিয়ে ত্বক মুছলে বা ত্বক নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ব্রণ হতে পারে ।

* বয়োসন্ধিকালে হরমোন পরিবর্তনের ফলে ত্বকে ব্রণ হয়ে থাকে।

* অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণেও ত্বকে ব্রণ হতে পারে ।

তাই নিয়মিত ত্বক পরিচর্যা করা উচিত যাতে ত্বকের এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ব্রণ প্রতিরোধের উপায় :

১। নিয়মিত দিনে ৩/৪ বার মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা।

২। ত্বকে যেন অতিরিক্ত তৈল জমতে না পারে সেজন্য ব্রণের ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩। তৈলাক্ত প্রসাধনী পরিহার করতে হবে ।

৪। রাতে ঘুমানোর পূর্বে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে ।

৫। ব্যায়ামের পর গোসল করতে হবে ভালো ফল পাওয়ার জন্য।

৬। আট-স্যাট টাইপের পোশাক না পড়াটাই ভালো।

৭। কম মিষ্টিযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে ।

৮। মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে ।

৯। প্রতিদিন মাথায় শাম্পু ব্যাবহার করা তবে মুখে যেন শাম্পু না লাগে ।

১০। Water Based প্রসাধনী ব্যাবহার করা (leveled Non-comedogenic)

১১। মাথায় Hat বা Headbands ব্যাবহার না করা ।

১২। ময়লা হাতে মুখ স্পর্শ না করা।

ব্রণ দূরীকরণের চিকিৎসা

বিভিন্নভাবে ব্রণের চিকিৎসা নিতে পারেন। সাধারণ ব্রণ সাধারণত আপনা আপনি সেরা যায়,কিন্তু ব্রণ কখনো কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন ঘরোয়া প্রযুক্তি ব্যবহারে আপনি ব্রণের চিকিৎসা করতে পারেন। এসিটিক অ্যাসিড, বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড এবং সালফার এর ব্যবহারে ব্রণের চিকিৎসা করা যেতে পারে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের লোশন, ক্রিম বা সাবান ও ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনি যদি এইগুলো ২-৩ সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করেন, আপনার ত্বকের ব্রণ ভালো হয়ে যাবে।

* Benzoel Peroxide :

এটি মূলত একটি ক্রিম বা জেল যা ব্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়। এই ক্রিম ব্রণের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

* স্যালিস্যাইলিক এসিড :

এটি ব্রণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত। মূলত মুখ পরিষ্কার করতে ফেসওয়াশ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

* Retinol :

 

এটিও ব্রণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তৈল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ফলে ব্রণ দ্রুত সেরে যায় ।

ব্রণের চিকিৎসায় Blue Light ট্রিটমেন্ট

ব্রণের একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা হলো Blue Light ট্রিটমেন্ট। একটি পরীক্ষায় দেখা যায় যে,  Blue Light – এ ব্রণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়ে যায়। আপনি যদি একটি কাঁচের বোতলে পানি ভোরে এতে  Blue Light প্রবেশ করিয়ে দেন তাহলে পানি জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে।এই মেশিনের IR Heat ত্বকের তৈল নির্গতকারী গ্রন্থিকে (sebaceous glands) repair করে, এর ফলে ত্বক তৈলাক্ত হয় না এবং ত্বকে আর কখনো ব্রণ হতে পারেনা। এটি একটি Bio-Medical মেশিন, এতে কোনো কেমিক্যাল নেই এবং এটি  FDA Approved,  তাই পার্শপ্রতিক্রিয়া হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ব্রণের উপর এই Blue Light প্রবেশ করিয়ে দিয়ে ব্রণের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোন প্রকার ঔষধ ব্যাবহার করা হয় না বলে এটি ত্বকের কোন ক্ষতি করে না, তাই এই চিকিৎসা ১০০% পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত । তাই ব্রণের চিকিৎসায় Acne Blue মেশিন ব্যাবহার করা যেতে পারে । সুতরাং ব্রণসহ আপনার ত্বকের যে কোনো চিকিৎসার জন্য বায়ো-জিন কস্মেসিউটিক্যালস এ যোগাযোগ করতে পারেন।

 

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: