Dhaka ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ যেত নৌকায় ফুলতলার দামোদরে ছু-রিকা-ঘাতে যুবকের মৃ*ত্যু, আহত -২ ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে হলোখানা ইউনিয়নের ষ্টেন্ডিং কমিটির সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত গৌরীপুরের সন্ত্রাসী রুবেল বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেতে চায় রিপন পরিবার বর্গ রামপালে মল্লিকেরবেড়ে এন. আমিন হেলথ জোন অ্যান্ড ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধন ভোগনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি , ডিমলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা হানিফ না ফেরার দেশে চলে গেলেন সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের পিতা আব্দুর রহমান,দাফন সম্পন্ন সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের প্রতিবাদে জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের নিন্দা পঞ্চগড়ের দুই মাদকাবারী ৬ মাসের কারাদণ্ড
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

শাহমাহমুদপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় এসএম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক দখলের চেষ্টা

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০০ Time View

 

স্টাফ রিপোর্টার:


চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে এস.এম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় একাধিকবার হামলা ও লাইনের তার কাটার অভিযোগ উঠেছে লোধের গাঁও গ্রামের মৃত আলফাজউদ্দিন গাজীর ছেলে মো. শাকিল গাজী (২৭) এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় হামলায় আহত এসএম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. রহমত হোসেন সাগরের বড় ভাই মো. নাজির হোসেন (৪২) বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে এফআইআরভুক্ত।

জানা যায়, সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এসএম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. রহমত হোসেন সাগর মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের বাকরা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার ব্যবসার প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব থেকে এ ধরনের হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

মো. রহমত হোসেন সাগর জানান, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি. বিকাল ৪টায় মান্দারী চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনে শাকিল গাজীসহ ৮-১০ জন প্রথমবারের মতো হামলা চালায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও ১০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. সকাল ১০টায় আরি বাড়ির সামনে দ্বিতীয়বার সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এতে তার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বেপারী গুরুতর আহত হন। হামলায় তার এক হাত ও একটি আঙুল ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এরপর ১১ এপ্রিল তিনি (মো. রহমত হোসেন সাগর) ইন্টারনেট লাইনের কাজ করতে গেলে মহামায়া বাজারের পশ্চিম পাশে স’মিলের কাছে শাকিল গাজী অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে তার কাছে থাকা যন্ত্রপাতি ও মালামাল ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। হামলায় তিনি ও তার দুই কর্মচারী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ  নামাজ পড়তে অনুরোধ করাই ‘অপরাধ’—অভিযোগ, হামলার শিকার ব্যক্তি

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মো. নাজির হোসেন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বের দুইটি হামলার ঘটনায় দুইজনকে পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আসে। মুক্ত হয়ে শাকিল গাজীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং ভুক্তভোগীর ইন্টারনেট লাইনের তার কেটে ফেলে। এমনকি গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেখানে নিজেদের ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, শাকিল গাজী তাকে ওই এলাকায় গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

প্রথম দুটি হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের লোধের গাঁও গাজী বাড়ির মৃত আলফাজউদ্দিন গাজীর ছেলে মো. শাকিল গাজী (২৭), মান্দারী মিজি বাড়ির মৃত শাহআলম মিজির ছেলে সোহাগ মিজি (২০), একই বাড়ির আবদুল কালাম কালুর ছেলে আরাফাত মিজি (১৮), মতলব দক্ষিণ থানার জোরপুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন (সান্ত) (২৪), মান্দারী মিজি বাড়ির মৃত শাহআলম মিজির ছেলে রবিউল মিজি রবু (২২), ঢাকা-১২১২, লেভেল-৩, প্লট নং-১১, রোড নং-১১৩/এ-এর বাসিন্দা সাইফ (৩৩)।

উক্ত দুইটি ঘটনার অভিযোগ বর্তমানে আদালতে এফআইআরভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী তৃতীয় ঘটনার অভিযোগটি শুধুমাত্র শাকিল গাজীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিল গাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়না।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রাস্তার অভাবে বন্যা মৌসুমে কবরস্থানে লাশ যেত নৌকায়

শাহমাহমুদপুরে সন্ত্রাসী কায়দায় এসএম ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক দখলের চেষ্টা

সময়: ১১:৩২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার:


চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে এস.এম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের ব্যবসা দখলের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কায়দায় একাধিকবার হামলা ও লাইনের তার কাটার অভিযোগ উঠেছে লোধের গাঁও গ্রামের মৃত আলফাজউদ্দিন গাজীর ছেলে মো. শাকিল গাজী (২৭) এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় হামলায় আহত এসএম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. রহমত হোসেন সাগরের বড় ভাই মো. নাজির হোসেন (৪২) বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে এফআইআরভুক্ত।

জানা যায়, সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত এসএম ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মো. রহমত হোসেন সাগর মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের বাকরা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার ব্যবসার প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব থেকে এ ধরনের হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

মো. রহমত হোসেন সাগর জানান, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি. বিকাল ৪টায় মান্দারী চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনে শাকিল গাজীসহ ৮-১০ জন প্রথমবারের মতো হামলা চালায়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও ১০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি. সকাল ১০টায় আরি বাড়ির সামনে দ্বিতীয়বার সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়। এতে তার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বেপারী গুরুতর আহত হন। হামলায় তার এক হাত ও একটি আঙুল ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এরপর ১১ এপ্রিল তিনি (মো. রহমত হোসেন সাগর) ইন্টারনেট লাইনের কাজ করতে গেলে মহামায়া বাজারের পশ্চিম পাশে স’মিলের কাছে শাকিল গাজী অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে তার কাছে থাকা যন্ত্রপাতি ও মালামাল ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। হামলায় তিনি ও তার দুই কর্মচারী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

আরও পড়ুনঃ  নামাজ পড়তে অনুরোধ করাই ‘অপরাধ’—অভিযোগ, হামলার শিকার ব্যক্তি

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মো. নাজির হোসেন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বের দুইটি হামলার ঘটনায় দুইজনকে পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে আসে। মুক্ত হয়ে শাকিল গাজীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং ভুক্তভোগীর ইন্টারনেট লাইনের তার কেটে ফেলে। এমনকি গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেখানে নিজেদের ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, শাকিল গাজী তাকে ওই এলাকায় গেলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসন ও স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

প্রথম দুটি হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের লোধের গাঁও গাজী বাড়ির মৃত আলফাজউদ্দিন গাজীর ছেলে মো. শাকিল গাজী (২৭), মান্দারী মিজি বাড়ির মৃত শাহআলম মিজির ছেলে সোহাগ মিজি (২০), একই বাড়ির আবদুল কালাম কালুর ছেলে আরাফাত মিজি (১৮), মতলব দক্ষিণ থানার জোরপুলের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন (সান্ত) (২৪), মান্দারী মিজি বাড়ির মৃত শাহআলম মিজির ছেলে রবিউল মিজি রবু (২২), ঢাকা-১২১২, লেভেল-৩, প্লট নং-১১, রোড নং-১১৩/এ-এর বাসিন্দা সাইফ (৩৩)।

উক্ত দুইটি ঘটনার অভিযোগ বর্তমানে আদালতে এফআইআরভুক্ত রয়েছে। পরবর্তী তৃতীয় ঘটনার অভিযোগটি শুধুমাত্র শাকিল গাজীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাকিল গাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়না।