Dhaka ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহী আরও দৃষ্টিনন্দন চরভদ্রাসনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৬২ হাজার বর্গমিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও বিনষ্ট সরিষাবাড়ীতে শামীম তালুকদার গোল্ডকাপ ফাইনাল ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের সাথে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের মতবিনিময় মালগাজীতে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শারদীয় শুভেচ্ছা ও পূজার উপহার ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন ও এভার শাইন ডেন্টাল কেয়ার-এর পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা  বান্দরবান সেনা জোনের উদ্যোগে লায়ন্স ক্লাব কর্তৃক রোয়াংছড়িতে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প ফুলবাড়ীতে জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

সংবাদ প্রকাশের পর আদমদীঘিতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বুশরা, বৈশাখীসহ ১৩ চালকলকে শোকজ

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:২৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ Time View

 

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, শর্তভঙ্গ ও তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অটোমেটিক চালকল পরিচালনা এবং অপরিশোধিত বর্জ্যপানি খাল-বিল ও ফসলি জমিতে ফেলার অভিযোগে ১৩টি চালকলকে শোকজ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ। শোকজের আওতায় আসা চালকলগুলোর মধ্যে রয়েছে বুশরা, সালমান, বৈশাখী, সুন্দরী, মৌ, ইছামতী ও রহমানসহ মোট ১৩টি অটোমেটিক চালকল। শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত পরিবেশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আইনে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অবৈধ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ, মালামাল জব্দ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। এদিকে গত ১৪ অক্টোবর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অনুযায়ী ধান-চালের মজুদ এবং পরিবেশ, ফায়ার, বয়লার ও বিএসটিআই লাইসেন্স হালনাগাদ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর “আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই চলছে চালকল, দূষিত হচ্ছে খাল-ফসলি জমি” শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগী হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ৪ অক্টোবর সরেজমিনে পরিদর্শনের পর ৭ অক্টোবর উপজেলার ১৩টি চালকলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে এসব কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ রোধে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হচ্ছে। এদিকে, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ৭ অক্টোবর বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছচাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিভিন্ন কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জলজ পরিবেশ। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, মৌ, রহমান, সালমান, সুন্দরী, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। নীতিমালায় বাঁধা নিষেধ থাকলেও আদৌও তা মানা হচ্ছেনা। শুধু তাই নয় অটোরাইস মিলে বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি (Effluent Treatment Plant) তরল বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্বেও দৃশ্যমান নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মিল মালিকরা। অথচ এসব অপরিশোধিত বিষাক্ত পানি সরাসরি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে’ গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ জেল জরিমানা বিধান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো কাগজে-কলমে নিয়মভঙ্গের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর দেখা যায়নি বলে জানান সচেতন এলাকাবাসী। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাদের এমন নিরবতায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে পড়ছে। অন্যদিকে সালমান, বৈশাখী সহ কয়েকটি অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে সরাসরি খাড়িতে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য চালকলে চলছে একই নিয়মে। একইভাবে বিভিন্ন চালকলের অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল-জলাশয়ে পড়ায় দূষিত হচ্ছে পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ। এদিকে মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা নীরিক্ষা দেখা যায়, দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। পানির পিএইচ (pH) এর স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা। পরীক্ষায় মিলের পানিতে পিএইচ পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা ০ দশমিক ০৫ থেকে ০ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে বলে পরীক্ষার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে মাত্র ০ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে শূন্য।

আরও পড়ুনঃ  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, আন্দোলনে সামনের সারিতে, পূজা মনিটরিং কমিটিতে নেই স্বেচ্ছাসেবক দল

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের আবুল বাসার জানান, মিলারদের পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অনুযায়ী ধান-চালের মজুদ এবং পরিবেশ, ফায়ার, বয়লার ও বিএসটিআই লাইসেন্স হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সর্তকতা অবলম্বন করা হবে।

এ বিষয়ে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ জানান, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ১৩টি চালকলকে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত পরিবেশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সম্প্রীতি-সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়েই আমরা এ সমাজে বসবাস করি: ফজলুল হক মিলন এমপি

সংবাদ প্রকাশের পর আদমদীঘিতে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বুশরা, বৈশাখীসহ ১৩ চালকলকে শোকজ

সময়: ১০:২৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

 

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, শর্তভঙ্গ ও তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই অটোমেটিক চালকল পরিচালনা এবং অপরিশোধিত বর্জ্যপানি খাল-বিল ও ফসলি জমিতে ফেলার অভিযোগে ১৩টি চালকলকে শোকজ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ। শোকজের আওতায় আসা চালকলগুলোর মধ্যে রয়েছে বুশরা, সালমান, বৈশাখী, সুন্দরী, মৌ, ইছামতী ও রহমানসহ মোট ১৩টি অটোমেটিক চালকল। শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত পরিবেশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আইনে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অবৈধ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ, মালামাল জব্দ এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিধান রয়েছে। এদিকে গত ১৪ অক্টোবর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অনুযায়ী ধান-চালের মজুদ এবং পরিবেশ, ফায়ার, বয়লার ও বিএসটিআই লাইসেন্স হালনাগাদ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর “আদমদীঘিতে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই চলছে চালকল, দূষিত হচ্ছে খাল-ফসলি জমি” শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে উদ্যোগী হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত ৪ অক্টোবর সরেজমিনে পরিদর্শনের পর ৭ অক্টোবর উপজেলার ১৩টি চালকলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ না থাকে এসব কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশদূষণ রোধে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানানো হচ্ছে। এদিকে, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত ৭ অক্টোবর বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। তবে অভিযোগ দাখিলের পরও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

জানা যায়, আদমদীঘি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষি ও মাছচাষের ওপর নির্ভরশীল। তবে বিভিন্ন কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া ও অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি ও জলজ পরিবেশ। বিশেষ করে সান্তাহার এলাকায় কয়েকটি অটোরাইস মিলের বর্জ্য সরাসরি খাল ও ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বুশরা অটো রাইস মিল, সুন্দরী অটো রাইস মিল, ইছামতী, মৌ, রহমান, সালমান, সুন্দরী, বৈশাখীসহ প্রায় ১৪টি অটোরাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশন থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে। নীতিমালায় বাঁধা নিষেধ থাকলেও আদৌও তা মানা হচ্ছেনা। শুধু তাই নয় অটোরাইস মিলে বর্জ্য পানি পরিশোধনের জন্য ইটিপি (Effluent Treatment Plant) তরল বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করা বাধ্যতামূলক হওয়া সত্বেও দৃশ্যমান নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে অবাধে এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন মিল মালিকরা। অথচ এসব অপরিশোধিত বিষাক্ত পানি সরাসরি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া ‘পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে’ গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ জেল জরিমানা বিধান রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো কাগজে-কলমে নিয়মভঙ্গের কথা থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর দেখা যায়নি বলে জানান সচেতন এলাকাবাসী। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাদের এমন নিরবতায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বুশরা অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ দিয়ে ইরামতি খালে পড়ছে। অন্যদিকে সালমান, বৈশাখী সহ কয়েকটি অটো রাইস মিলের বর্জ্য পানি ড্রেনের মাধ্যমে ফসলি জমি পেরিয়ে সরাসরি খাড়িতে যাচ্ছে। এছাড়াও অন্যান্য চালকলে চলছে একই নিয়মে। একইভাবে বিভিন্ন চালকলের অপরিশোধিত বর্জ্য পানি খাল-জলাশয়ে পড়ায় দূষিত হচ্ছে পানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ। এদিকে মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে পরীক্ষা নীরিক্ষা দেখা যায়, দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) এর স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। পানির পিএইচ (pH) এর স্বাভাবিক মাত্রা ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ হওয়ার কথা। পরীক্ষায় মিলের পানিতে পিএইচ পাওয়া গেছে ৭ দশমিক ৩ এবং খালের পানিতে ৬ দশমিক ৮। অ্যামোনিয়ার স্বাভাবিক মাত্রা ০ দশমিক ০৫ থেকে ০ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও মিলের পানিতে এর পরিমাণ ১০ মিলিগ্রামের বেশি এবং খালের পানিতে ১২ মিলিগ্রামের বেশি পাওয়া গেছে বলে পরীক্ষার তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অ্যালকালিনিটির স্বাভাবিক মাত্রা ২০ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম থাকার কথা থাকলেও মিলের পানিতে তা পাওয়া গেছে মাত্র ০ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম এবং খালের পানিতে শূন্য।

আরও পড়ুনঃ  রেললাইনের পাশে নবজাতকের মৃত দেহ

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের আবুল বাসার জানান, মিলারদের পাক্ষিক ছাঁটাই ক্ষমতা অনুযায়ী ধান-চালের মজুদ এবং পরিবেশ, ফায়ার, বয়লার ও বিএসটিআই লাইসেন্স হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সর্তকতা অবলম্বন করা হবে।

এ বিষয়ে বগুড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ জানান, তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ১৩টি চালকলকে শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত পরিবেশ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।