
মোঃ শহিদুল ইসলাম, প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের অক্সিজেন–দুই নম্বর গেট সড়কের স্টারশিপ এলাকায় শীতল ঝরনা খালের ওপর গত বর্ষায় ধসে পড়া সড়কসেতুটি পুনর্নির্মাণের পর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন–এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সেতুটি উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনকালে মেয়র বলেন, গত বছরের ৭ আগস্ট প্রায় ৫০ বছর আগে নির্মিত পুরনো সেতুটি ধসে পড়ে। তৎকালীন সময়ে নির্মিত কাঠামোটি আধুনিক ভারবহন ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী–এর প্রকল্পের আওতায় শীতল ঝরনা খালের প্রশস্ততা ৬ মিটার থেকে ১৩ মিটারে উন্নীত এবং গভীরতা বৃদ্ধি করা হয়। ফলে বর্ষাকালে পানির প্রবাহের গতি বেড়ে গিয়ে সেতুর ফাউন্ডেশনের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। এতে উত্তর পাশের ইটের আবাটমেন্ট ভেঙে পড়ে এবং একাংশ বসে গিয়ে সেতুটি ধসে পড়ে।
মেয়র জানান, ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিক পরিদর্শনের পর এক বছরের মধ্যে সেতু পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। ধসে পড়া অংশ অপসারণের পর গত বছরের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সেতুটিকে যান চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাটহাজারী রোডে অবস্থিত হওয়ায় সেতুটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। যানজট নিরসনে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে সেতুটির প্রস্থ হবে ২৩ মিটার। প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৯ মিটার প্রশস্ত অংশ নির্মাণ করে তা উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে পুরনো সেতুর অবশিষ্ট অংশ ভেঙে পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ শুরু হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, মাহমুদ শাফকাত আমিন, জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়া, সহকারী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান সিদ্দিকী পাভেল এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
এদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 

























