মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)
দীর্ঘ ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা মনিরুজ্জামান। তাঁর অবসর উপলক্ষে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় সিক্ত এ আয়োজনে নানা মুহূর্তে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অতিথিদের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টায় দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। বহু বছর পর প্রিয় শিক্ষকের সান্নিধ্যে এসে স্মৃতিচারণায় মেতে ওঠেন তাঁর অসংখ্য ছাত্র।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মতিন এবং সঞ্চালনা করেন ক্রীড়া শিক্ষক শামসুজ্জামান বাবু।
স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের সুপার আব্দুল জব্বার বলেন, “একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলেন। মাওলানা মনিরুজ্জামান তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।”
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী সুপার মাওলানা মেহেদী হাসান, ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, কৃষি শিক্ষক হাফিজুর রহমান, গণিত শিক্ষক আক্কাস, আনিসুর রহমান, আরবি শিক্ষক আমেনা, খোদেজা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, তৌহিদুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, নুরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, মাওলানা মনিরুজ্জামানের হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, শিক্ষক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে শিক্ষা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি শুধু শ্রেণিকক্ষেই নয়, গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থী সংগ্রহ ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অর্থ সংগ্রহেও ভূমিকা রেখেছেন।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষকের হাতে সম্মাননা প্রদান। এ সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকেই।
সম্মাননা গ্রহণ করে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে এতটা ভালোবাসবে। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন তোমাদের ভালোবাসা ও দোয়া।”
স্মৃতিচারণায় সাবেক শিক্ষার্থীরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ তাঁর কঠোর শাসনের কথা স্মরণ করেন, কেউ আবার পিতৃতুল্য স্নেহ ও মমতার স্মৃতি তুলে ধরেন।
দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে মাওলানা মনিরুজ্জামান শুধু ধর্মীয় ও একাডেমিক শিক্ষা নয়, অসংখ্য সৎ, আদর্শবান ও দ্বীনদার মানুষ গড়ে তুলেছেন। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও তাঁর শিক্ষা, আদর্শ ও অবদান শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।