অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন :
আওয়ামী লীগের উপর ঝড় জাপটা এসেছে তা নতুন নয়। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের উপর যে সুনামি আসে তা থেকে এখনো পরিত্রাণ পাওয়া যায়নি । এখনো আওয়ামী লীগের বহু নেতা ও কর্মীরা প্রাণের ভয়ে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছেন বা হিজরত করেছেন। প্রাণের ভয়ে হিজরত করা মোটেও লজ্জার নয়। প্রায় ১৪০০ বছর আগে ৬২২ খৃষ্টাব্ধে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) জীবন বাঁচাতে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন এবং দীর্ঘ দশ বছর পর মক্কা বিজয় করে স্বদেশে ফিরে আসেন । মক্কাবাসী তাঁকে উলুধ্বনি দিয়ে স্বাগতম জানায়।
সুতরাং দুঃচিন্তার কোনো কারণ নেই। আওয়ামী লীগ ফিরে আসবে। তবে কখন কবে তা বলতে পারি না। ফিরে আসার সময় নির্ভর করবে বর্তমান সরকারের শাসনের ওপর, তাদের অপকর্ম ও অব্যবস্থপনার ওপর । তাছাড়া বিশেষভাবে দেশের অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগ দলের কর্ম তৎপরতার উপর। এখনে উল্লেখ্য যে বিদেশী সরকারসমূহ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আওয়ামী লীগকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে খুব একটা সাহায্য করবে না, দেশের অভ্যন্তে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন যত শক্তিশালী হবে ততই তাদের প্রাতাবর্তন সহজ হবে, ত্বরান্বিত হবে।
১৯৭৫ থেকে এখন অনেক সম্ভাবনাময়
তবে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে ১৯৭৫ সালের থেকে এখন আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তবে এখন এতদিন অপেক্ষা করতে হবে না। দেশের জনগণই নিজেদের তাগিদে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় ডেকে আনবে। তবে ধৈর্য্য ধরতে হবে, আত্মশুদ্ধি করতে হবে। দলের মধ্যে সংস্কার যেমন প্রয়োজন এবং সাম্প্রতিক ভরাডুবির যথার্থ কারণ নির্নয় করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে সমস্ত অভিযোগ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে তার যথাযথ উত্তর দিতে হবে। যে সমস্ত অভিযোগ বানোয়াট তা কেন বানোয়াট তা যুক্তি দিয়ে খন্ডাতে হবে। যে সমস্ত অভিযোগের সত্যতা আছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে তা স্বীকার করে নিয়ে যারা এর জন্য দায়ী তাদের শাস্তি দিতে হবে এবং আগামীতে যেন এমন না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
আমি মনে করি দেশের প্রত্যকটি বড বড় বিষয় ও ঘটনার উপর দেশের জনগণকে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিত । যেমন ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার বিষয়ক বানোয়াট অভিযোগ অথবা বিগত পাতানো নির্বাচন নিয়ে কিংবা ঘুম-খুন-হত্যা, নির্যাতন, ড. ইউনূসের আয়নাঘর (আয়নাঘরে ১০ বছর বন্দি অবস্থায় এক ব্যাক্তির ৬ বছরের শিশু সন্তানের জন্ম এবং দশ বছরে একটি গামছা যা তিনি ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করেন তা এখনো এক্কেবারে নতুন রয়েছে যা আমরা টেলিভিশনে দেখেছি (সেই গামছা কোম্পানিকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা উচিত) ও জেহাদী অপতৎপরতা এবং সন্ত্রাসী মব কালচার ইত্যাদির উপর বস্তুনিষ্ঠ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা একান্ত প্রয়োজন ।
আওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের দল, জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তি
আওয়ামী লীগ হচ্ছে জনগণের দল এবং জনগণই হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্তি। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা, জনগণের প্রত্যাশা, তাদের সার্বিক কল্যাণ এবং দেশের মঙ্গল চরিতার্থ করার অন্য নাম হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটি শক্তিশালী চেতনা, হুদয়ের প্রতিধ্বনি। সুতরাং যতদিন মানুষের দুঃখ দুর্দশা থাকবে, যতদিন মানুষের আশা আকাঙ্খা থাকবে, যতদিন মানুষের প্রত্যাশা পুরণ না হবে, ততদিন মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগ ঠিকে থাকবে। আওয়ামী লীগের মৃত্যু নেই। মানুষের চাওয়া পাওয়ার অধিকার ও অপ্রাপ্তি বাড়ার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগ সোচ্চার হয়ে উঠবে। পূর্ব বাংলার হাজার বছরের চাওয়া পাওয়া এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করে এবং দেশের দরিদ্র মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করে, দেশের বিভিন্ন রকমের চাহিদা পূরণ করে আওয়ামী লীগ পর পর চারবার সরকার গঠন করে এদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে এবং একে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত করে ।
২০২৪-এর সুনামি: ঘরে ডাকাত ঢুকার মতো
২০২৪-এর জুলাই-এ আওয়ামী লীগের উপর সুনামি আঁচড় করেছে। বাড়ীতে ডাকাত ঢুকলে জিনিসপত্র খোয়া যায়, বাড়ির কোনো কোনো লোকজনকে বা দারোয়ানকে (পুলিশকে) খুন করে ডাকাতদল লুটপাট করে পালিয়ে যায়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।
ছোটবেলায় বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর জন্য মা-দাদীরা “বর্গীর ভয় দেখিয়ে” ছড়া গাইতেন। বঙ্গভূমে সময় সময় বর্গীর আক্রমণ স্বাভাবিক ছিল— তারা সাজানো গোছানো সংসারকে তছনছ করে লুটপাট করতো। গোলায় ধান পুকু…