
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ায় দেশটিতে নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়েছিল। সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এর অন্যতম সদস্য হলেন আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি। তিনি পরবর্তী খামেনি হতে পারেন বলে যখন আলোচনা জোরশোরে চলছিল, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কিছু বিদেশি সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, আরাফিও নাকি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন।
মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের পর ইরান ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বাহিনী ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো।
তুর্কি ওয়েবসাইট এভরিম আগাছি জানাচ্ছে, আরাফি একজন জ্যেষ্ঠ আলেম এবং ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। খামেনির হত্যাকাণ্ডের দিনই তাকে দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলে নিযুক্ত করা হয়, যেখানে তার সঙ্গে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি-এজেই।
এই কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য হলো যতক্ষণ না ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ একজন স্থায়ী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করছে, ততক্ষণ দেশের শাসনব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার আগেই তেহরানসহ সর্বত্র অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ মার্চ) বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং কিছু ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা শুরু হয় যে, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় এক বিমান হামলায় আরাফি নিজেও নিহত হয়েছেন। সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের বরাতে একটি ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমও এই দাবি করেছে।
তবে ইরানের কোনো সরকারি মাধ্যম বা আন্তর্জাতিক বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম এখনও এই তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি।
সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া