হাকীম মোঃ রফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
একসময় যেখানে ছেলেমেয়েরা খেলতো জলকেলি, পাখিরা নামতো পানিতে, জোছনায় চিকচিক করতো পানির ঢেউ—আজ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল কংক্রিটের দানব।
কথা হচ্ছে কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি প্রাচীন পুকুরের। বয়স প্রায় আশি বছর। মানুষের ইতিহাস, এলাকার ঐতিহ্য আর পরিবেশের জীবন্ত অংশ ছিলো এই জলাধার।
কিন্তু আজ? সেই পুকুর নেই। মাটিচাপা পড়ে গেছে। তার ওপর দাঁড়িয়ে গেছে এক বহুতল ভবন।
পুকুরটি কে গিলে খেল?
স্থানীয়রা বলেন, রাতের আঁধারে, প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে নয়—বরং চোখের সামনেই ভরাট হয়েছে পুকুরটি।
কাগজপত্র, অভিযোগ, প্রতিবাদ—সবই হয়েছে।
📄 ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা পড়ে লিখিত অভিযোগ (নং: ৪৮)
📄 ৩১ ডিসেম্বর স্থানীয় ভূমি অফিসকে চিঠি পাঠানো হয় প্রতিবেদন চেয়ে
কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেছে, কোনো ব্যবস্থা নেই, তদন্ত নেই, নেই কোনো জবাবদিহি।
"আমরা হারালাম শুধু একটি পুকুর নয়, একটি শ্বাসপ্রশ্বাসের জায়গা"
স্থানীয় এক প্রবীণ বলেন,
> “ছোটবেলায় ওই পুকুরে মাছ ধরেছি। আজ চোখের সামনে দেখছি, সেটা মুছে যাচ্ছে। প্রশাসন নিশ্চুপ। যেন কিছুই হয়নি।”
একটি পুকুর কী?
একটি পুকুর মানে শুধু পানির গর্ত নয়।
এটি:
ভূগর্ভস্থ পানির ভাণ্ডার
শহরের প্রাকৃতিক শীতলকারক
জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়
বৃষ্টির পানি ধারণ করে জলাবদ্ধতা কমায়
এটি একটি প্রাকৃতিক পরিবেশব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
আইন আছে, প্রয়োগ নেই
“বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫” অনুযায়ী—
> “প্রাকৃতিক জলাধার ইচ্ছাকৃতভাবে ভরাট করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
তবু এই আইনের সামনে দাঁড়িয়ে অপরাধীরা বুক চিতিয়ে ভবন বানাচ্ছে।
আর আইন? বসে আছে ফাইলের নিচে চাপা পড়ে।
প্রশাসনের নীরবতা কি ইঙ্গিত দেয় কোনো সমঝোতার?
প্রমাণ দেওয়া হয়েছে—ছবি, নকশা, খতিয়ান।
তথ্য চাওয়া হয়েছে—কিন্তু প্রতিউত্তর নেই।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন:
> "এই নিশ্চুপতা কি দুর্নীতির ছায়া নয়?"
জনগণের দাবি: চারটি পদক্ষেপ জরুরিকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা
আজ আমরা যদি একটি পুকুর হারাতে দিই, কাল হারাবো নদী, জলাশয়, বন—শেষ পর্যন্ত হাওয়া।
বিশ্ব যখন জলবায়ু সংকটে হাঁপিয়ে উঠছে, তখন আমাদের গাফিলতি আত্মঘাতী।
> “একটি পুকুর রক্ষা মানে একটি শহর রক্ষা, একটি প্রাণের পরিবেশ রক্ষা।”
#জলাধার_নিরাপত্তা #পরিবেশ_বাঁচাও #পুকুর_হত্যা #প্রকৃতি_নির্মাণ_নয়_বিনাশ
---