সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ) :
আজ ২৪ জুন বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে কলকাতার তারাতলা ব্রেস ব্রিজ সংলগ্ন পি-২০ ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট রোড, কলকাতা-৮ এলাকায় বেহেরা ব্রাদার্স অ্যান্ড অয়ন ট্রেডার্স-এর একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন গোডাউনটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মুহূর্তেই বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করে। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ, দমকল, কেএমসি, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, সেনাবাহিনীসহ একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় ক্রেন, গ্যাস কাটার এবং স্নিফার ডগ। ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করে ধীরে ধীরে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অভিযানে এখন পর্যন্ত ২২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে এবং আহতদের এসএসকেএম হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এখনও কতজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও ২০–৩০ জন চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য রাজ্য ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্স দলও উপস্থিত রয়েছেন। শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে অক্সিজেন ও প্রাথমিক খাদ্য সরবরাহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্মাণকাজে গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিনের কাঠামোর ওপর অনিয়ন্ত্রিতভাবে নির্মাণকাজ চলছিল এবং লোহার বিমের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
উদ্ধার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত শুরু হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।