আল হেলাল,সুনামগঞ্জ :
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের কাপনা জালালিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারি সুপার মাওলানা আব্দুল লতিফ (৫০) কে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) আমলগ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিশ্বম্ভরপুর জোনের বিচারক,সিআর ৪৪৫/২০২৫ নং মামলায় হাজিরা দিতে গেলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। হাজতাবদ্ধ আব্দুল লতিফ উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম মেরুয়াখলা গ্রামের মফিজ উদ্দিনের পুত্র। একই মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক ও স্থানীয় কাপনা গ্রামের মহিউদ্দিনের স্ত্রী জখমী জয়নব বিবি (৪০) এর দায়েরকৃত মামলায় তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। ঐ মামলার অপরাপর আসামীরা হলেন,আদাং গ্রামের আব্দুল হাসিমের পুত্র সেলিম আহমদ ওরফে ইয়াবা সেলিম,মৃত শাহাব উদ্দিনের পুত্র জালাল উদ্দিন ভূট্টো,মথুরকান্দি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র বাপ্পারাজ,কাপনা গ্রামের মৃত বজলুল হক ভূইয়ার পুত্র রহমত আলী,আব্দুল করিমের পুত্র খাইরুল ইসলাম,মৃত কিতাব আলীর পুত্র আব্দুস ছাত্তার,পশ্চিম মেরুয়াখলা গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মালেক,পাকিজান গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের পুত্র নুরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮ জন। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষিকা জয়নব বিবি বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ১৪৩/৩৪০/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪৩৫/৩৫৪/৪২৭/১১৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিবরণে প্রকাশ,কাপনা জালালিয়া মাদ্রাসায় সুপারের পদটি দীর্ঘদিন যাবৎ শুন্য থাকায় মাদ্রাসার কমিটি শিক্ষিকা জয়নব বিবিকে ভারপ্রাপ্ত সুপার পদে নিয়োগ করে। এতে নিজেকে অপমানিত বোধ করে আব্দুল লতিফ মোটা অংকের টাকা ব্যায় করে কমিটিকে বাধ্য বশীভূত করে ভারপ্রাপ্ত সুপার পদটি ভাগিয়ে নেন। তার এ অবৈধ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে জয়নব বিবি মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। এতে ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে বেআইনীভাবে শিক্ষিকা জয়নব বিবির বেতন ভাতা বন্ধ করাসহ ঐ শিক্ষিকাকে খুন করার নেশায় মরিয়া হয়ে উঠেন আব্দুল লতিফ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টায় মাদ্রাসার কাজ শেষে বার্ষিক পরীক্ষার ডিউটির সম্মানি দেওয়ার জন্য সহকারি সুপার মাওলানা আব্দুল লতিফ কে বললে ক্ষুব্ধ আব্দুল লতিফ অবৈধ পদবী ও বেআইনী ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে শিশুসন্তানসহ ঐ শিক্ষিকাকে অফিসরুমের দরজা তালাবদ্ধ করে বেদম মারপিঠক্রমে গুরুতর আহত করেন। এসময় শিক্ষিকাকে রক্ষার জন্য পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসলে ঐ সুপার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমসহ মোট ৫ জনকে আহত করার পাশাপাশি তাদের একটি মোটর সাইকেলে অগ্নি সংযোগ এবং আরেকটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে। বাদীপক্ষে বিজ্ঞ আদালতে এডভোকেট আব্দুল হক,এডভোকেট তৈয়বুর রহমান বাবুল ও এডভোকেট আব্দুল গাফফার মামলাটি পরিচালনা করেন।