
মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালীগঞ্জে জমিতে সুপারি চারা রোপণকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের চার সদস্যকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারগানা এলাকায় চাঁন মিয়া ভাঙ্গী তাঁর জমিতে সুপারি চারা রোপণ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন এসে তাঁকে চারা রোপণে বাধা দেন এবং প্রায় ২০টি সুপারি চারা উপড়ে ফেলেন। এতে প্রায় দুই হাজার টাকার ক্ষতি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাঁন মিয়া এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথা ও পেটের বাঁ পাশে এবং ছেন দিয়ে ডান চোখের ওপর আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চাঁন মিয়ার ডাক-চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী ফরিদা খাতুন, ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম ও ছেলের স্ত্রী লিবা আক্তার ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এতে তরিকুল ইসলাম, ফরিদা খাতুন ও লিবা আক্তার আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় নারীদের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে দুটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হামলাকারীরা বসতঘরে ঢুকে বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর এবং আলমারিতে থাকা নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুরে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁন মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় চাঁন মিয়ার স্ত্রী মোছা. ফরিদা খাতুন দক্ষিণ নারগানা এলাকার জনি, জুয়েল, আশিক ওরফে সাব্বির, শাহিনা বেগম, জরিনা বেগম, সুমন, শাকিল মোড়ল ও আবির মোড়লকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, “ফরিদা খাতুনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”