Dhaka ০৫:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বুড়িচংয়ে অর্ধশতাধিক অসহায়দের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ ভূরুঙ্গামারীতে ঈদ উপলক্ষে প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ তেতুলিয়া শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদুল ফিতরের হাট বাজার, ‎ গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সাদিককে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত জেলাবাসী নিউইয়র্কে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: নাবান্ন রেস্টুরেন্টে ৫ম বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে ঐক্য ও সম্প্রীতির আহ্বান: হাবিবুর রহমান হবি ‎ জকিগঞ্জে ‘আকমাম খাঁন শিক্ষা ও সেবা ট্রাস্টের’ ঈদ সামগ্রী বিতরণ বাংনাদেশ আওয়ামী যুব লীগের ঊদ‍্যোগে জাতির পিতার পালন ১৭ মার্চ হক কমিটি নোয়াপাড়ার উদ্যোগে ঈদবস্ত্র বিতরণ গোদাগাড়ীতে এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কাস্টমস এর ঝাড়ুদার সৈয়দ আলীর ৪০ কোটি টাকার সম্পদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৮ Time View

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:

ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনালে কর্মজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক মাত্র ২০০ টাকা মজুরির ঝাড়ুদার হিসেবে। সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন একই প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত। কিন্তু এলাকাবাসীর কাছে তার পরিচয় ভিন্ন—সেখানে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে। নিয়মিত দান-খয়রাত, জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক আয়োজন এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তাকে নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিটিজি ক্রাইম টিভির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কাস্টমসের সেই ‘কোটিপতি’ নৈশপ্রহরী সৈয়দ আলী ওরফে সবুজের বিস্ময়কর গল্প।

রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত জীবন বীমা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন সৈয়দ আলী। কয়েক বছর আগে তিনি চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিয়োগ পান। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তিনি পরিচিত একজন ‘বড়মাপের কাস্টমস কর্মকর্তা’ হিসেবে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যদিও তার সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এমন সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় গিয়ে জানা যায়, একসময় মাস্টার ভিলা নামের একটি ভবনের এককক্ষের বাসায় মাসিক মাত্র ৮০০ টাকা ভাড়ায় বসবাস শুরু করেছিলেন সৈয়দ আলী। বর্তমানে একই এলাকার কালু হাজী রোডে তার রয়েছে দুটি দোতলা বাড়ি, ৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি পাঁচতলা ভবন, ৬ কাঠা জমির ওপর এক পাশে একতলা পাকা দালান এবং অপর পাশে প্রায় ২০ কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা টিনশেড বাড়ি। এছাড়া মিজমিজি দক্ষিণপাড়ার এ ব্লকের ৩৩৫/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৩ কাঠা জমির ওপর সদ্য নির্মিত একটি তিনতলা ভবনও তার মালিকানাধীন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের আরও দাবি, ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় তার কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গাউসিয়া বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠা জমির একটি প্লট রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকার কাছাকাছি। এসব সম্পদের বিষয়ে তথ্য জানতে সৈয়দ আলীর পাঁচতলা বাড়িতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার স্ত্রী ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন এবং বাসার ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সৈয়দ আলীর স্ত্রী দাবি করেন, এসব সম্পদ তারা ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে করেছেন। তবে ঋণের কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। একই সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্যও বারবার অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে ফোনে সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদ তার নয়; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদগুলো মূলত তাদের। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। বরং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার ইঙ্গিত দেন। এদিকে এলাকাবাসীর ভাষ্য, সম্প্রতি তার ছেলের সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানও বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা যায়।

সব মিলিয়ে একজন নৈশপ্রহরীর আয়-উৎসের সঙ্গে এত বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

বুড়িচংয়ে অর্ধশতাধিক অসহায়দের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ

কাস্টমস এর ঝাড়ুদার সৈয়দ আলীর ৪০ কোটি টাকার সম্পদ

Update Time : ১০:৩৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার:

ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনালে কর্মজীবন শুরু হয়েছিল দৈনিক মাত্র ২০০ টাকা মজুরির ঝাড়ুদার হিসেবে। সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন একই প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরী পদে কর্মরত। কিন্তু এলাকাবাসীর কাছে তার পরিচয় ভিন্ন—সেখানে তিনি পরিচিত একজন প্রভাবশালী কাস্টমস কর্মকর্তা হিসেবে। নিয়মিত দান-খয়রাত, জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক আয়োজন এবং বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তাকে নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সিটিজি ক্রাইম টিভির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কাস্টমসের সেই ‘কোটিপতি’ নৈশপ্রহরী সৈয়দ আলী ওরফে সবুজের বিস্ময়কর গল্প।

রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় অবস্থিত জীবন বীমা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনালে মাস্টার রোলে ঝাড়ুদার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন সৈয়দ আলী। কয়েক বছর আগে তিনি চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নৈশপ্রহরীর পদে নিয়োগ পান। তবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় তিনি পরিচিত একজন ‘বড়মাপের কাস্টমস কর্মকর্তা’ হিসেবে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যদিও তার সরকারি চাকরির আয় দিয়ে এমন সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় গিয়ে জানা যায়, একসময় মাস্টার ভিলা নামের একটি ভবনের এককক্ষের বাসায় মাসিক মাত্র ৮০০ টাকা ভাড়ায় বসবাস শুরু করেছিলেন সৈয়দ আলী। বর্তমানে একই এলাকার কালু হাজী রোডে তার রয়েছে দুটি দোতলা বাড়ি, ৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি পাঁচতলা ভবন, ৬ কাঠা জমির ওপর এক পাশে একতলা পাকা দালান এবং অপর পাশে প্রায় ২০ কক্ষবিশিষ্ট আধাপাকা টিনশেড বাড়ি। এছাড়া মিজমিজি দক্ষিণপাড়ার এ ব্লকের ৩৩৫/১ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৩ কাঠা জমির ওপর সদ্য নির্মিত একটি তিনতলা ভবনও তার মালিকানাধীন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের আরও দাবি, ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় তার কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গাউসিয়া বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ কাঠা জমির একটি প্লট রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকার কাছাকাছি। এসব সম্পদের বিষয়ে তথ্য জানতে সৈয়দ আলীর পাঁচতলা বাড়িতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার স্ত্রী ভেতরে প্রবেশে বাধা দেন এবং বাসার ফ্ল্যাটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সৈয়দ আলীর স্ত্রী দাবি করেন, এসব সম্পদ তারা ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে করেছেন। তবে ঋণের কোনো লিখিত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। একই সঙ্গে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্যও বারবার অনুরোধ করেন।
অন্যদিকে ফোনে সৈয়দ আলী দাবি করেন, এসব সম্পদ তার নয়; তার ভাই ও শ্যালক বিদেশে থাকেন এবং সম্পদগুলো মূলত তাদের। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি। বরং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার ইঙ্গিত দেন। এদিকে এলাকাবাসীর ভাষ্য, সম্প্রতি তার ছেলের সুন্নতে খতনার অনুষ্ঠানও বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা যায়।

সব মিলিয়ে একজন নৈশপ্রহরীর আয়-উৎসের সঙ্গে এত বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।