মণিরামপুর প্রতিনিধি: নয়ন রায়
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৫ নম্বর কুলটিয়া ও ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এবং জমির মালিকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির উপজেলা সভাপতি এম এ হালিমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
রোববার (১৪ জুন) সকালে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে উপজেলা চত্বরে মুখরিত করে তোলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কুলটিয়া ও খানপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষি জমি নষ্ট করে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক পুকুর খনন করা হচ্ছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং শত শত একর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় সাধারণ জমির মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি লিজ নেওয়ার পর সেখানে মাছের ঘের তৈরি করা হচ্ছে। এতে কৃষি জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষি জমিতে পুকুর খনন নিরুৎসাহিত ও নিয়ন্ত্রিত হলেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
পরে কৃষকদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। এ বিষয়ে ইউএনও সরকারি কাজে অফিসের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা মিছিল নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যান এবং বিষয়টি অবহিত করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দান আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায়, রাস্তার পূর্ব পাশে ঘের এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য রাখা একটি চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এতে পশ্চিম পাশের কৃষি জমির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। সরেজমিনে রাস্তার পূর্বে ঘেরের পাশে যেয়ে দেখা যায় পানি নিষ্কাশনের ক্যানেলের সামনে মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে পানি নিষ্কাশন না হয় এবং একটি জমির উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
তদন্তের সময় প্রথমদিকে এম এ হালিম ঘটনাস্থলে থাকলেও রাস্তার পূর্ব পাশে ঘের এলাকায় তদন্তে গেলে তিনি সেখানে যাননি।
পরিদর্শন শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দান আমিনকে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য না দিয়ে বলেন, “আগামী মঙ্গলবার দুই পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে ডাকা হয়েছে, তখন বিস্তারিত বলা হবে।”