এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্তে নেমে একটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব, নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগ, অলংকার ও মোটরসাইকেলসহ ৩২ ধরনের আলামত। তবে পুলিশের অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরের কোতোয়ালী থানার লাভ লেইন এলাকার শ্রীশ্রী দয়াময়ী কালীমন্দির সড়কে লুৎফুর সাহেবের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নগরের ওআর নিজাম রোডে উৎসব সুপার মার্কেটের বিপরীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। মোহাম্মদ ইয়াছিন (৪৯) তাঁর স্ত্রী হালিমা আক্তারকে (৪০) চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার জন্য রিকশায় করে জিইসি মোড় থেকে পার্কভিউ হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে হালিমা আক্তারের হাতে থাকা বাদামি রঙের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে দুটি আইফোন, নগদ চার হাজার টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সের দাম দেড় লাখ টাকা এবং অপর আইফোনের দাম ৩০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পাঁচলাইশ থানা মোড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ইয়াছিনের অভিযোগের ভিত্তিতে ২১ অক্টোবর পাঁচলাইশ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের সহায়তায় মো. এরশাদ (৪০) নামে এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় পুলিশ। পরে ওসি মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল লাভ লেইনের ওই বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এরশাদ পালিয়ে যান।
অভিযানকালে বাসাটি থেকে ১০টির বেশি মোবাইল ফোন, একটি অচল এইচপি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব, বিভিন্ন রঙের ও ব্র্যান্ডের নারীদের ভ্যানিটি ব্যাগ ও হ্যান্ডব্যাগ, একটি মোটরসাইকেল, অলংকার, নগদ ৩৫ হাজার টাকা, ১৬টি পুরোনো পেনড্রাইভ, চাবির গোছা ও একটি হেলমেটসহ ৩২ ধরনের আলামত জব্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, জব্দ করা মালামালের মধ্যে একটি অপো রেনো ১৩এফ মোবাইল ফোন ও বাদামি রঙের একটি নারীদের ব্যাগ এই মামলায় ছিনতাই হওয়া মালামাল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য মালামালগুলোও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ছিনিয়ে এনে ওই বাসায় রাখা হয়েছিল।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এরশাদ একজন পেশাদার ছিনতাইকারী। তাঁর বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধের একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
উদ্ধার করা অন্যান্য মালামালের প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।