
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৮ মাস পরও চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি দুলালপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে।
জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নুরুল ইসলামের জন্মতারিখ ২০ ডিসেম্বর ১৯৬৫। সে অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর। তবে অভিযোগ রয়েছে, চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে গত ১৮ মাস ধরে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গ্রাম পুলিশদের সরকারি বেতন-ভাতা প্রতি তিন থেকে ছয় মাস অন্তর সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রদান করা হয়। চলতি জুন মাসে প্রত্যয়ন প্রদানের জন্য দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. আলতাফ হোসেন সকল গ্রাম পুলিশের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি জমা দিতে বলেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, নুরুল ইসলামের সরকারি চাকরির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর শেষ হয়ে গেছে। অথচ তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক শামীম মোল্লার সুপারিশে গত ১৮ মাস ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন।
স্থানীয়ভাবে অনেকে ধারণা করছেন, চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের যোগসাজশে অর্থ ভাগাভাগির মাধ্যমে এ অনিয়ম সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বিষয়টি অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. আলতাফ হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিনকে অবহিত করেন। পরে গত ১৬ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক শামীম মোল্লার কাছে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ফেরত চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলাম বলেন, “আমার চাকরি শেষ হওয়ার বিষয়টি চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক শামীম মোল্লাকে জানালে তিনি আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন এবং কোনো সমস্যা হলে তিনি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। সেই হিসেবে আমি গত ১৮ মাস ধরে উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করেছি এবং চেয়ারম্যানের সন্তোষজনক প্রত্যয়ন নিয়ে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছি।”
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক শামীম মোল্লা বলেন, “গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলামের চাকরি কবে শেষ হয়েছে, তা আমি জানতাম না। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাই প্রত্যয়ন দিয়েছি। টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ সঠিক নয়। চাকরি শেষ হওয়ার বিষয়টিও তিনি আমাকে জানাননি।”
দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, “আমি এখানে নতুন এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। আমার মূল দায়িত্ব পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে। গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা উত্তোলনের প্রত্যয়ন দেওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখি নুরুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। তিনি অতিরিক্ত ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫১৬ টাকা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।”
শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ ফেরত চেয়ে দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুল হক শামীম মোল্লাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”