--রফিকুল ইসলাম ভুলু ,
১৯৭১ সালের সাতই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) লক্ষাধিক জনতার মাঝে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির মুক্তির দিকনির্দেশনায় বলেছিলেন।
তোমাদের যার যা আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের সেই ভয়াল রাতে পাকিস্তানি মিলিটারি যখন হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, ঠিক তখনই রাত বারোটার পরে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেস মারফত স্বাধীনতার মুক্তির বাণী পৌঁছে দেন, বহির্বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের কাছে।
আমি মুজিব বলছি। সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিতে চাই। পাক বাহিনী আমাদের বাঙালি জাতির উপরে আক্রমণ করেছে। আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবেনা।
তাই আজ থেকে বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।
সেই দিকনির্দেশনার দীপ্ত শপথ নিয়ে, জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে বীরদর্পে মরণপণ যুদ্ধে। তাই বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি।
অবশেষে একটি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দু'লক্ষাধিক মা-বোনের মহান ত্যাগের বিনিময়ে, বাঙালি জাতি বিজয়ের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে। তাঁদের সেই কাঙ্খিত স্বপ্নের স্বাধীনতা ও বিজয় এবং লাল সবুজের পতাকার স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র এই বাংলাদেশ।
১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) শীতের পড়ন্ত বিকেলে, যৌথ কমান্ডের নিকট ৯৩ হাজার পরাজিত পাকিস্তানী মিলিটারি সহ। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পক্ষে জেনারেল এ, এ, কে নিয়াজী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে মুজিব নগর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ, কে খন্দকার।
সেদিন থেকেই ২৬ শে মার্চ "মহান স্বাধীনতা দিবস" এবং "জাতীয় বিজয় দিবস" হিসেবে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় ভাবে পালন করে আসছেন।