নিজস্ব প্রতিনিধি:
জাল স্বাক্ষরযুক্ত প্রাপ্যতা শিট আপলোড করে একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাপ্যতাবিহীন পণ্য আমদানিতে সহায়তা করার অভিযোগে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুরের সহকারী প্রোগ্রামার মোঃ আতিকুর রহমানকে দুই ধাপ বেতন নিম্নস্তরে অবনমিত করেছে সরকার।
বুধবার (২০ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মোঃ আবদুর রহমান খান এফসিএমএ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে রংপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত আতিকুর রহমান এর আগে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (উত্তর)-এ সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় তিনি বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জংশিন টেক্সটাইল (বিডি) লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশে জাল স্বাক্ষরযুক্ত প্রাপ্যতা শিট আপলোড করে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রাপ্যতাবিহীন পণ্য আমদানিতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ মে ২০২৫ তারিখে তিনি সহকারী কমিশনারের স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই না করেই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জাল প্রাপ্যতা শিট আপলোড করেন। এছাড়া তার ব্যবহৃত কম্পিউটার ও ইউজার আইডি থেকেই জাল প্রাপ্যতা শিট আপলোডের প্রমাণ পাওয়া যায়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘অসদাচরণ’ ও কর্তব্যে অবহেলার শামিল। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে অভিযোগনামা প্রদান করা হয়।
লিখিত জবাবে মোঃ আতিকুর রহমান অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেননি।
অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(২)(ঘ) অনুযায়ী তাকে ‘বেতন গ্রেডের দুই ধাপ নিম্নস্তরে অবনমিতকরণ’ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
এর ফলে তার বর্তমান মূল বেতন ৩৯ হাজার ৫৭০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩৫ হাজার ৮৮০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দণ্ড আগামী দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে দণ্ডকালীন সময়ে তার বেতন বৃদ্ধি গণনাযোগ্য হবে না এবং তিনি এ সময়ের জন্য কোনো বকেয়া সুবিধাও পাবেন না।