
টানা ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকানপাট ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে পৌর শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। এতে সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। যানবাহনের সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেককে ভেজা কাপড়েই পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং বিভিন্ন স্থানে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে অল্প সময়ের ভারী বর্ষণেই শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। অনেক দোকানে পানি ঢুকে পণ্যের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। অন্যদিকে রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পানিতে চলাচলের সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মোটর বিকল হওয়ায় চালকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব তানজীল অভিযোগ করেন, ড্রেন সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে পৌর প্রশাসনের কাছে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিত আবেদন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, বড় মসজিদ সড়কে একটি নির্মাণাধীন মার্কেটের নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে সড়কে পড়ে থাকায় বৃষ্টির সময় বালু ও সুরকি ড্রেনে জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বড় মসজিদ, দরিচারআনী বাজার ও আটানী বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নোংরা পানি জমে থাকায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। তারা দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।