— মানিক লাল ঘোষ
জাতীয় জীবনে কিছু কিছু ট্র্যাজেডি শুধু শোকের জন্ম দেয় না, বরং রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক কাঠামোর দুর্বলতাকেও উন্মোচিত করে। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন কলেজে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা তেমনই এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। সেই দিনের দগ্ধ শিক্ষার্থীদের আর্তনাদ এখনও জাতির হৃদয়ে গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।
সেদিন দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাইলস্টোন কলেজের জুনিয়র সেকশন ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় পাইলট ও শিক্ষিকাসহ বহু প্রাণহানির পাশাপাশি শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গুরুতর দগ্ধ হন। দুর্ঘটনার পরপরই সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে এক সংসদ সদস্য দাবি করেন, দগ্ধ শিশুদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য দেশের খ্যাতিমান বার্ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন আগ্রহ প্রকাশ করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ওই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচকদের প্রশ্ন—দুর্যোগের মুহূর্তে রাজনৈতিক পরিচয় কি মানবিক দায়িত্বের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল? ডা. সামন্ত লাল সেন দীর্ঘদিন ধরে বার্ন চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে তার মতো অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের সহযোগিতা না নেওয়ার অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন সংকটময় সময়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত ছিল প্রধান অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার দাবিও উঠেছে।
মাইলস্টোনের সেই দগ্ধ শিশুদের কান্না আজও মানুষকে নাড়া দেয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কারণ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, মানবিক সংকটে মানুষের জীবনই হওয়া উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক ও কলামিস্ট, সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন)