
মোঃ বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো,
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলায় দিন দিন বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাজার, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা ও চলাফেরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের একটি অংশ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গ্রামের সহজ-সরল কিশোর ও তরুণদের একা পেয়ে ১৮ বছরের নিচের কিছু কিশোর দলবদ্ধভাবে অন্ধকার ও জনচলাচল কম এমন সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, “আমার একটি ছেলে সন্তানকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ শেষ হওয়ার পথে। আমার ছেলে নিয়মিত স্কুলে যায় না। পরিবারের বাবা-মায়ের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আর কোনো অভিভাবক যেন আমার মতো পরিস্থিতির শিকার না হন। সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, অভিভাবকদের সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাতে সন্তানদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে না যেতে দেওয়াই ভালো।”
এদিকে ডিমলা বিজয় চত্বর এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা এবং পথচারীদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৮ বছরের নিচের একদল কিশোর নিয়মিত সেখানে জড়ো হয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
রুমনা নামের এক নারী বলেন, “পরিবার নিয়ে বিজয় চত্বরে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু কিছু কিশোরের চলাফেরা ও কথাবার্তা শুনে আমরা খুবই বিব্রত ও আতঙ্কিত বোধ করেছি। এমন সুন্দর একটি পরিবেশ যদি এভাবে নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে মানুষ আর কোথায় গিয়ে স্বস্তিতে ঘোরাফেরা করবে? বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।”
সুমন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “বিজয় চত্বরের পিছন, ভূমি অফিসের পশ্চিমে, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পরিত্যক্ত বাসভবনসহ নেশা করার পর বিভিন্ন ধরনের মাদকের বোতল, স্টিক, উপকরণ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদেরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করে তাদের কাউন্সেলিং, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিজয় চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কিশোরদের একটি অংশ আরও ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই জননিরাপত্তা ও সুন্দর সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
অনুসন্ধান শেষে ১৪ই সেপ্টেম্বর (সোমবার) সকালে ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “কিশোর গ্যাং একটি সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়। এদের বিষয়ে সার্বিক নজরদারি চলছে। প্রয়োজনে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আইনানুগ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”