Dhaka ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালীগঞ্জের তুমুলিয়ায় খ্রিষ্টান বাড়ীতে ডাকাতি পাঁচবিবিতে সুষ্ঠ নির্বাচন ও নির্বাচনত্তোর সহিংসতা রোধে প্রসংশিত ইউএনওর সেলিম আহমেদ অক্সিজেন–দুই নম্বর গেট সড়কে স্বস্তি, নতুন সেতু উদ্বোধন করলেন মেয়র ডা. শাহাদাত বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি’র এমপি, নির্বাচিত হওয়ায় একে এম ফজলুল হক মিলন কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় গাজীপুর ৫ আসনের জনসাধারণ মহা তীর্থ সীতাকুণ্ডে শ্রীশ্রী শিব চতুর্দশী পূজা উপলক্ষে মাতৃ-পিতৃ পিণ্ডদান কোভিড অনুদান লুটে জড়িত ৯ বাংলাদেশি, দোষ স্বীকার করে অর্থ ফেরত ওয়াশিংটন ডিসির ডুপন্ট সার্কেলে চলছে মনিকা জাহান বোসের প্রদর্শনী শাহানা হানিফ আবার ব্রুকলীন পাওয়ার একশত নির্বাচিত মূলধারায় ৭ বাংলাদেশী—আমেরিকান শিল্পীর চিত্র প্রদর্শনী আনন্দময় ভ্যালেন্টাইন’স ডে-১৪ ফেব্রুয়ারি
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নড়াইলের দুটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ Time View

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:


নড়াইলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি আসনে ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালামের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচাই করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী জামানত হলো, নির্বাচনী নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণ স্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে, অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এবার নড়াইলের দুটি আসনে ৫ প্রার্থী ব্যতীত বাকি ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নড়াইল-১ আসনে ১১২টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোট সহ) মোট ভোট প্রদান করেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার। যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ সংগৃহীত হয়। ওই ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৯৪ ভোট। এই আসনে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তার মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ছয়জনের।

তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল আজিজ, তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৫২ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. মিল্টন মোল্যা পেয়েছেন মাত্র ৪৬১ ভোট। কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বি এম নাগিব হোসেন পেয়েছেন এক হাজার ১১৩ ভোট। ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এস এম সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৮৯৮ ভোট। হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জ্বল মোল্যা পেয়েছেন মাত্র ২৩০ ভোট। ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুকেশ সাহা আনন্দ পেয়েছেন ৮৬৪ ভোট।নড়াইল -২ আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) মোট ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৮১ জন; যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ সংগৃহীত হয়। ওই ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের সমীকরণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৫৯৭ ভোট।

নড়াইল-২ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন-জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ পেয়েছেন মাত্র ৬৮৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৯ ভোট। গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৩৩৯ ভোট। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. শোয়েব আলী পেয়েছেন মাত্র ২২০ ভোট। জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন মাত্র ২১৯ ভোট।

উল্লেখ্য, নড়াইল -১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছেন। ও নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু এক লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী কলস প্রতীকের মো. মনিরুল ইসলাম ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।
নড়াইল-১ আসনটি ৩০ বছর পর বিএনপির দখলে আসে। অন্যদিকে নড়াইল -২ আসন স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথমবারের মতো জামায়াত তাদের দখলে নেয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

কালীগঞ্জের তুমুলিয়ায় খ্রিষ্টান বাড়ীতে ডাকাতি

নড়াইলের দুটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

Update Time : ০৮:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:


নড়াইলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইলের দুটি আসনে ১৬ প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. আব্দুল ছালামের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচাই করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী জামানত হলো, নির্বাচনী নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণ স্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে, অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়। ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকায় যত ভোট পড়ে তার শতকরা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসেবে এবার নড়াইলের দুটি আসনে ৫ প্রার্থী ব্যতীত বাকি ১১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

নড়াইল-১ আসনে ১১২টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোট সহ) মোট ভোট প্রদান করেন এক লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার। যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ১৭ শতাংশ সংগৃহীত হয়। ওই ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৯৪ ভোট। এই আসনে আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তার মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ছয়জনের।

তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল আজিজ, তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৫২ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল প্রতীকের প্রার্থী মো. মিল্টন মোল্যা পেয়েছেন মাত্র ৪৬১ ভোট। কলস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী বি এম নাগিব হোসেন পেয়েছেন এক হাজার ১১৩ ভোট। ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এস এম সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন মাত্র ৮৯৮ ভোট। হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জ্বল মোল্যা পেয়েছেন মাত্র ২৩০ ভোট। ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুকেশ সাহা আনন্দ পেয়েছেন ৮৬৪ ভোট।নড়াইল -২ আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রে (পোস্টাল ভোটসহ) মোট ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৮১ জন; যা মোট ভোটের ৬৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ সংগৃহীত হয়। ওই ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের সমীকরণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৫৯৭ ভোট।

নড়াইল-২ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তারা হলেন-জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ পেয়েছেন মাত্র ৬৮৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৯ ভোট। গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. নূর ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৩৩৯ ভোট। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত ছড়ি প্রতীকের প্রার্থী মো. শোয়েব আলী পেয়েছেন মাত্র ২২০ ভোট। জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদা ইয়াসমিন পেয়েছেন মাত্র ২১৯ ভোট।

উল্লেখ্য, নড়াইল -১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ওবায়দুল্লাহ ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছেন। ও নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু এক লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী কলস প্রতীকের মো. মনিরুল ইসলাম ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।
নড়াইল-১ আসনটি ৩০ বছর পর বিএনপির দখলে আসে। অন্যদিকে নড়াইল -২ আসন স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর প্রথমবারের মতো জামায়াত তাদের দখলে নেয়। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।