লেখক, আবদুল্লাহ আল মামুন,
এক দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন এক নতুন গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তির পর, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থিতিশীলতার পথে যাত্রা:
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করেছিল, নবগঠিত সরকার সেই সংস্কারসমূহকে স্থায়ী রূপ দিতে সচেষ্ট রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা জেগেছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুশাসন ও সংস্কারের অঙ্গীকার:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ‘জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং দুর্নীতি রোধে শূন্য সহিষ্ণুতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারগুলো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে নতুন মন্ত্রিসভা।
জনমনে প্রত্যাশা:
রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে তৃণমূলের মানুষের মাঝে এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও অধিকাংশের মধ্যে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
"জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা।"
বাংলাদেশ এখন তাকিয়ে আছে এক নতুন ভোরের দিকে, যেখানে আইনের শাসন আর সামাজিক ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভ।