নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত কোথাও না কোথাও ছোট-বড় চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে গত পরশু দুই শিক্ষিকাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার ৬নং কুর্শি ইউনিয়নে একটি চোর চক্রের সদস্যকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে জনতা পুলিশে সোপর্দ করেছে।
জানা যায়, আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মামুন মিয়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি করে নবীগঞ্জের দিকে নিয়ে আসে। মোটরসাইকেলের মালিক মনুমুখ ইউনিয়নের সুমারাই গ্রামের শেখ নজরুল ইসলাম তার মোটরসাইকেলে থাকা ট্র্যাকিং ডিভাইসের জিপিআরএস সিস্টেম চালু থাকায় মোটরসাইকেলটির অবস্থান ও গতিবেগ পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন।
একপর্যায়ে তিনি দেখতে পান মোটরসাইকেলটি নবীগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছে। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় মোবাইল ফোনে বিভিন্ন স্থানে খবর দিয়ে চোরকে অনুসরণ শুরু করেন।
চোরকে ধাওয়া করতে করতে ৬নং কুর্শি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ জিপিআরএস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মোটরসাইকেলটি বন্ধ হয়ে যায়। এসময় স্থানীয় জনতার সহায়তায় মামুন মিয়াকে আটক করে গণধোলাই দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃত ব্যক্তি ও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মামুন মিয়া জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের মোহনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোটরসাইকেল চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোহনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূল হোতা মোহন পালিয়ে যায়।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মোহনকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোনায়েম মিয়া জানান, মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপর অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের ধরতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।