স্টাফ রিপোর্টার:
চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাসা-বাড়িতে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের উদ্যোগে কলম, খাতা, টেবিল, ল্যাম্প ও ফল নিয়ে রাতের আধারে হাজির হন তিনি।
ইউএনওকে হঠাৎ বাসায় দেখে শিক্ষার্থীরা প্রথমে অবাক ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে তিনি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সঠিকভাবে রিভিশন দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।
(২ জুলাই) সোমবার দিবাগত রাতে কলম, খাতা, টেবিল, ল্যাম্প ও ফল নিয়ে পরীক্ষার্থীদের বাসা-বাড়িতে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
এ ঘটনাটি দেশ-বিদেশে জানাজানি হলে সবার মনে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন। অনেক পরীক্ষার্থী এ সময়ে এমন উপহার পাবে বলে কখনোই চিন্তা করতে পারেনি। অনেকেই ভাবছেন, এটা স্বপ্ন নাকি বাস্তব?
এ উপহার পেয়ে পরীক্ষার্থীরা আবেগ ও আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে এই উপহার নিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। অনেক শিক্ষার্থীরই বিশ্বাস হচ্ছে না যে, ইউএনও নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনার খোঁজ নেবেন এবং তাদের হাতে উপহার তুলে দেবেন।
এ ব্যাপারে জনৈক একজন শিক্ষার্থী বলেন, “ইউএনও স্যারের এই অনুপ্রেরণা আমার সারা জীবনের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে। ইউএনও স্যারের এই উপহারের জন্য হলেও কেউ না কেউ ভালো ফলাফল করবে।”
এ ব্যাপারে জনৈক কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য এটা একটি বড় পাওয়া। একজন খেটে-খাওয়া গরিবের মেয়ে পরীক্ষা দেবে, আর তাকে উপজেলার সর্বোচ্চ কর্তা এসে অনুপ্রেরণা দেবেন—এটা আমাদের কখনোই বিশ্বাস হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি এই উদ্যোগকে মনে-প্রাণে সম্মান করছি। আমার মেয়ে যেন বড় হয়ে উনার মতো এমন একজন মানুষ হয়—আল্লাহর কাছে এই দোয়া করি।”
এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সারা উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনুপ্রেরণা কাজ করছে। সচেতন মানুষ এ বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এ ধরনের আশাজাগানিয়া উদ্যোগ গরিব, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আশান্বিত করে। এটি শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি করবে, ইনশাআল্লাহ।