মো: গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, জমি দখল, গাছপালা কেটে নেওয়া এবং বসতবাড়ির জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী রাসন্তি অভিযোগ করে বলেন, তার পিতার জমিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি একদল লোক এসে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী কাকলি বলেন, নির্ধারিত দিনে বিষয়টি আলোচনার কথা থাকলেও তারা কোনো কথা না বলে বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়। তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, তারা দলবল নিয়ে এসে কোনো কথা ছাড়াই বাড়িঘর ভেঙে ফেলে এবং জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, হামলার সময় তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে থানায় অভিযোগ করা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে তিনি জানান।
জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলার ধোগ্রাকুল মৌজার ৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের বৈধ ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ ওই জমিকে নিজেদের দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করে এবং বাড়িঘর ভাঙচুরসহ লুটপাট চালায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার সময় নগদ প্রায় এক লাখ টাকা এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। বাধা দিতে গেলে তাদের গালিগালাজ ও মারধর করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযুক্ত মোস্তফা বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কাগজপত্র নিয়ে কথা বলব, তারপর সিদ্ধান্ত হবে।” তবে তার স্ত্রী বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান জানান, তিনি বিষয়টি জেনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেবেন বলে জানান।