
নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন বেতনকাঠামোর খসড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবারই পে স্কেলের খসড়া বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরও নম্বর দেওয়া হবে। পরে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।
অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভায় নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করা হয়। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তা পিছিয়ে যায়।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা রয়েছে।
তিনি জানান, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ মধ্যমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনায় (এমটিবিএফ) বিবেচনায় রাখা হয়েছে। ফলে এ ব্যয় সরকারের জন্য হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো চাপ নয়।
মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, সরকার প্রতিবছর শুধু এক বছরের বাজেট প্রণয়ন করে না; বরং আগামী কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়েরও আগাম হিসাব করা হয়। নতুন পে স্কেলের সম্ভাব্য ব্যয়ও সেই দীর্ঘমেয়াদি বাজেট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছিল।
এদিকে অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার নিশ্চিত করেছেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ধাপগুলো শেষ করে আগামী রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারিতে সাময়িক বিলম্বের কারণ হিসেবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়টিকে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতেই প্রজ্ঞাপন জারিতে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে।
নতুন কাঠামোর আওতায় ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও বর্ধিত বেতন একবারে দেওয়া হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তিন ধাপে বর্ধিত মূল বেতন বাস্তবায়ন করবে সরকার।