হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, প্রবাসীদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বর্তমানে গুরুতর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটে নিমজ্জিত। সংগঠনটির দাবি, বিদেশগামী কর্মীদের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে গঠিত ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিলের মাধ্যমে ব্যাংকটির মূলধনের একটি বড় অংশ গঠিত হলেও বর্তমানে দুর্নীতি, অনিয়ম, খেলাপি ঋণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অস্তিত্ব সংকটে পৌঁছেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানায়, ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের একটি বড় অংশ বর্তমানে খেলাপি হয়ে গেছে। বিভিন্ন শাখায় অনিয়ম, ভুয়া ঋণ বিতরণ, ঘুষ, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগও উঠেছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একটি ব্যাংকের সংকট নয়, বরং কোটি কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির কষ্টার্জিত অর্থের প্রতি চরম অবিচার।
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবারের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসা এবং সদস্য সচিব এমএ রউফ বলেন, প্রবাসীদের ঘাম ও রক্তঝরা পরিশ্রমে অর্জিত প্রতিটি টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রবাসীরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। তাই তাদের অর্থ দিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ এবং রংধনু নারী ফাউন্ডেশন সংসদ পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
১. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সকল অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
২. যেসব কর্মকর্তা, কর্মচারী, দালাল বা প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার করতে হবে।
৩. ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রকৃত প্রবাসী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে মূলধনের প্রকৃত অংশীদাররা নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ করতে পারেন।
৪. রাজনৈতিক প্রভাব ও আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যাংকারদের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।
৫. আধুনিক কোর ব্যাংকিং ব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং কঠোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা চালু করে ব্যাংককে একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও কার্যকর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।
এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএনএম ঈসা ও সদস্য সচিব এমএ রউফ বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স প্রেরণকারী নন; তারা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেই অর্থের যথাযথ ব্যবস্থাপনা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।
তারা আরও বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে যদি সত্যিকার অর্থেই প্রবাসীদের কল্যাণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হয়, তবে অবিলম্বে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রবাসীদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই প্রতিষ্ঠান তার মূল উদ্দেশ্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হবে এবং প্রবাসীদের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
///আইবিএননিউজ।