
-রফিকুল ইসলাম ভুলু,
জন্মের পরে আমার জ্ঞান ধারণের মধ্যদিয়ে শুনতে পারি। ছিলাম আমি মায়ের উদরে ভিন্ন এক জগতে। তবে জানতে পারিনি মায়ের উদরে প্রবেশের পূর্বে আমার কি অন্য কোনো অস্তিত্ব ছিলো কিনা? তাতো আমার জানা নেই কিংবা বলারও সাধ্য নেই। তবে এতটুকু বুঝতে পারি। মায়ের উদর থেকেই জীবনের উৎপত্তি এবং শুরু।
সেখানে ছিলাম আমি জীবন্ত কিন্তু চলমান নয়। আর অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে নিজের নির্ধারিত অবস্থানেই নড়াচড়া এবং হাত পা ছোড়াছুড়ি করা ছাড়া। এর বাহিরে কিছুই করার ছিলোনা। সেখানে ছিলোনা আমার কোনো চাওয়া পাওয়ার আকুতি কিংবা মিনতি। এমনকি ছিলোনা কোনো খানা খাদ্যের আক্ষেপও। শুধুই ছিলো অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে আমার জীবন ধারণের প্রক্রিয়া।
সেছিলো হয়তো এক স্বপ্ন জগতের মতো। দীর্ঘ একটি সময়ের ব্যবধানে মায়ের উদর হতে ভূমিষ্ঠ হয়ে এলাম আমি প্রকৃতির এ জগত সংসারে। অথচ সে সময়ের কথা এখন আমার ইহ জগতে এসে স্মরণে আনার কোনো সুযোগ নেই অথবা সাধ্যও নেই।
মায়ের উদর হতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় কান্না দিয়ে এবং পৃথিবীর নানাবিধ উপাদানের সংমিশ্রণের মধ্যদিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের আদান প্রদানের মাধ্যমে এবং জীবন ধারণের ও অনুশাসনের মধ্যদিয়ে পর্যায়ক্রমে অনুভুতি জাগে দেহে অবস্থানরত প্রাণের উপস্থিতি ও উপলব্ধি এবং অনুধাবন করার প্রেরণার মাধ্যমে।
দেহে প্রাণ আছে বলেই এই পৃথিবীর মাঝে আমি জীবন্ত একজন মানুষ অথবা প্রাণী। তাই আমরা জীবদ্দশায় কতোনা কি করে থাকি? যার কোনো ইয়াত্তা নেই। আসলে সবকিছুই কি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন? নিশ্চয়ই না। তবে সকল কিছুই কোনো এক অদৃশ্য শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
মনে জাগ্রত হয়। আমি এক উড়ন্ত ঘুড়ির মতো আকাশে উড়ে বেড়াতে চাই। কিন্তু আমার সে সাধ্য নেই। সুতো বিহীন প্রাণো ঘুড়ির মতো আকাশে উড়া কিংবা আকাশ ছোঁয়ার?
অদৃশ্য শক্তি ঘুড়ি উড়িয়ে বসে আছেন নাটাইয়ের সুতো পেঁচিয়ে তাঁর নিয়ন্ত্রণে বেঁধে। তাই তাঁর ইচ্ছা মাফিক যখন নাটাইয়ের সূতো পেঁচিয়ে টান দিবেন, ঠিক বান্দা তখন নিরুপায় এবং অসহায় হয়ে তাঁর নিকটে পৌঁছাতে বাধ্য হবেন। আর যদি তখন বাতাসের প্রবল বেগে ঘুড়ি উড়তে থাকে, তখন হয়তোবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুতো ছিঁড়ে ঘুড়ি উড়তে উড়তে চলে যাবে কোনো এক অজানায়।
সুতো বিহীন ঘুড়ির আকাশে উড়ে বেড়ানোর সাধ্য নেই। ঘুড়ি উড়ার শক্তি সুতোর সাহায্যে এবং বাতাসের মাধ্যমে, যদি কেউ তা উড়িয়ে দেয়। ঘুড়ি তখন উড়তে থাকে আপন খেয়ালে। কিন্তু ঘুড়ির নিজস্ব কোনো ক্ষমতা কিংবা এখতিয়ার নেই উড়ে বেড়ানোর।
তাইতো বলি। মানুষের এই দেহ ঘড়ির ভিতরে যে প্রাণো ঘুড়ি রয়েছে তাঁর নিয়ন্ত্রক কে? আছে কি সাধ্য সে প্রাণো ঘুড়ি দেখার অথবা ধরা কিংবা ছোঁয়ার? সে প্রাণো ঘুড়ির দ্বারা অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে পরিচালিত হয় দেহ
ঘড়ি। আর এই দেহ ঘড়ি জীবনের শুরু থেকে মৃত্যু অবধি চলতেই থাকে বিরতিহীন ভাবে।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে প্রাণো ঘুড়ি যখন দেহ থেকে বেড়িয়ে যায়। তখন দেহ ঘড়ির কাঁটা আর সচল হয়না। তাইতো কবি গানে বলেন। “মন আমার দেহ ঘড়ি, বানাইয়াছে কোন মিস্ত্রী”? সেতো আমি দেখেনি। দেখার সুযোগও নেই। জন্মের পরে জ্ঞান ধারণের মধ্যদিয়ে শুনতে পারি কিংবা জানতে পারি। এক অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বাণীতে রয়েছে। যাঁকে আল্লাহ, খোদা, গড, ভগবান, ঈশ্বর ও আরো কতো নামে ডাকা হয়ে থাকে।
যখন আমার এই দেহ ঘড়ি অচল হয়ে যাবে কিংবা বিকল হয়ে যাবে। ঠিক তখন কি আমার পক্ষে সম্ভব হবে এই দেহ ঘড়ি সচল করা কিংবা আজীবন ধরে রাখার? নিশ্চয়ই না।
তাহলে আমি কিছু মানি আর নাইবা মানি অথবা কিছু বিশ্বাস করি কিংবা নাইবা করি অথবা কিছুকে স্বীকার করি আর নাইবা করি। তাতে স্রষ্টা নামের অদৃশ্য শক্তির কিছুই যায় আসে না।
কিন্তু ইচ্ছায় হোক অথবা অনিচ্ছায় হোক। আমাকে কোনো না কোনো ভাবে অদেখা সেই অদৃশ্য শক্তি স্রষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী চলতেই হয়। অথবা সেই শক্তির দ্বারাই পরিচালিত হয়ে থাকি। তাহলে কোন্ কিসে আমার এতো ক্ষমতার প্রভাব কিংবা অহংকারের বাহাদুরি?
ছিলাম আমি অজানার মাঝে। জন্মের পরে এলাম আমি ভব দরিয়ায় জানার মাঝে। সময়ের ব্যবধানে আবার আমি চলে যাবো কোনো এক অদৃশ্য শক্তির অজানার মাঝে।
তাহলে কি করে এবং কেনোইবা এলাম ভবে? অথবা কেনোই সৃষ্টি করা হলো স্বল্প দিনের খেয়া ঘাটের মাঝি হতে? অথবা ঘাইন ভাঙ্গা কিংবা জবর কাঁটার জন্যে? কি করে জানবো আমি গোপন এ রহস্যভেদের খবর? কেউ কি দিতে পারবে এর সমাধান? আছে কি এর কোনো পথ কিংবা উপায়?
কেউ কি দেখেছে তাঁকে? যে করেছে সৃষ্টি তোমাকে? অথবা খুঁজে পেয়েছে কি তাঁকে? এ কথা কেউ কি বলতে পারবে? মনেতো হয়না-রে মনা। আসলে সবাই নিজেকে জাহির করার মধ্যদিয়ে চালায় কথামালায় প্রতিযোগিতা।
কি করে আমি দেখতে পাবো অথবা খুঁজে পাবো? আমার এই দেহ ঘড়ির সেই প্রাণো ঘুড়ির ঠিকানা? আসলে আমিতো এর কোনো কুল কিনারা খুঁজে পাইনা?আদৌ কি তাঁকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে মনে হয়?
শতো খুজিলেও পাবো কি তাঁকে? শুনেছি যে রয়েছে নিরাকারে বিরাজমান সর্বস্তরে সকলের মাঝে। যতোই খুঁজে বেড়াও তাঁকে? লাভ হবেনা তাঁতে? অবশেষে তাঁকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে। তুমি নিজেই পাগল বনে যাবে।
আসলে ভবের এই দুনিয়া ছেড়ে কেউ কি যেতে চায় আপন খেয়ালে? অথচ তাকেতো যেতেই হবে। সাধ্য আছে কি এর বিপরীতে নিজেকে রক্ষা করতে? তাকি আর হয়, ওরে পাগল মন? এক না একদিন তো যেতেই হবে ভবের এই মায়া ছেড়ে। শুধু কিছু সময়ের ব্যবধানে।
তাই শুধু শুধু এই সকল মিছে ভাবনা বাদ দিয়ে। ক্ষণ এ জীবন চলার পথে এবং প্রকৃত ভালোবাসার মাঝে, মানব কল্যাণের মাধ্যমে উজাড় করে দাও নিজেকে। সেখানেই মিলবে তোমার হৃদয়ের প্রশান্তি এবং আত্মতৃপ্তি।
ওরে দেহ ঘড়ি অচল হলে, তাকি আর পুনরায় সচল হবে? অথবা অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা বলে প্রাণো ঘুড়ির সুতো দিয়ে বেড় হয়ে গেলে, পুনরায় কি আর শ্বাস-প্রশ্বাসের সুযোগ মিলবে? কিংবা উড়ার কোনো স্বপ্ন মনে জাগবে?
যখন প্রাণো ঘুড়ি হৃদয় ছিঁড়ে উড়ে যাবে? তখন তোমার ঐ দেহ ঘড়ি অচল হয়ে, প্রাণশূন্য এই নিথর দেহ খানি পচে গলে মিশে যাবে মাটির সনে। শুধু কঙ্কাল গুলো পড়ে রবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভব এই দরিয়ার মাঝে।
তুমি কি জানো? কোথায় তুমি ছিলে এবং কি করে তুমি এলে ভব এ দরিয়ার মাঝে? আবার সময়ের ব্যবধানে তুমি কোথায় চলে যাবে? তুমি কি তা বলতে পারবে? আছে কি সে সাধ্য অথবা ক্ষমতা তোমার মাঝে? ভাবছো কি তা একটি বারেও?
কি করে কেনোইবা এবং কোন্ প্রয়োজনে সৃষ্টি করা হলো এ সকল কিছুর? এবং কেনোইবা করা হলো ভালো মন্দের পার্থক্য? এবং কেনোইবা শয়তানকে দেয়া হলো মানবের মাঝে কূমন্ত্রণা দিয়ে পথভ্রষ্ট করার অনুমতি?
নিষ্পাপ হয়ে জন্ম নেয়া। সৃষ্টির সেরা ঘোষিত মানুষ নামের প্রাণীকে অযথা কেনো অপরাধী বানিয়ে, কেনোইবা পাপের বোঝা বহন করে বেড়াতে হবে? তার কি কোনো প্রয়োজন ছিলো? অথবা নানাবিধ ঝামেলা পোহানোর কিংবা অকারণে পাপের বোঝার দায়ভার বহন করার?
সত্যিকার অর্থে এ সকল সৃষ্টির রহস্য কি সত্য সঠিক ও প্রদত্ত পথের ন্যায় সঙ্গত বলে মনে হয়? আমারতো মনে হয় না। তাহলে কেনো এবং কোন্ কারণে অথবা কিসের জন্য এ সকল মানব প্রজনন সৃষ্টি করা হলো?
কেনোইবা নিরপরাধ এবং অজানাকে শয়তানের প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধী বানিয়ে দোষী সাব্যস্ত করে, শূলে চড়ানো কিংবা জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো হবে? তাকি সত্যিকার অর্থে যুক্তি সঙ্গত বলে মনে হয়? আমিতো এর কোনো সমাধান খুঁজে পাইনা?
আমি খুঁজে ফিরি তাঁকে? যে রয়েছে আমার এই দেহে প্রাণো ঘুড়ি হয়ে? আমার এই প্রাণো ঘুড়ি যেদিন দেহ ত্যাগ করে উড়ে যাবে। সেদিনই আমার এই দেহ ঘড়ির কাঁটা অচল হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধের মধ্যদিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বো।
অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মধ্যদিয়ে প্রকৃতির এই চলমান জীবন ধারা থেকে চিরতরে বিদায় নিবো। এটা নির্ধারিত এবং অবধারিত। এরপরে আমার কি হবে? এবং আবার আমি পুনরায় অন্য কোথাও কোনো অস্তিত্বের মধ্যে সৃষ্টি হবো কিনা জানিনা?
কি করে জানবো এবং কাকে বলবো এ কথা? সেতো আমার জানা নেই এবং জানার সাধ্যও নেই? আর এ সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে কিনা তাও জানিনা?
আসলে মানুষ কি নিজেই চেয়েছে তাঁর জীবনের এ বিফল ধারা? কি করে তা সম্ভব বলে মনে হয়? মানুষতো আর সে নিজেকে নিজে সৃষ্টি করেনি? আছে কি এসকল রহস্যভেদের প্রকৃত কোনো সমাধান? কেউ কি পারবে এর সমাধান দিতে?
Reporter Name 


























