শাব্বির আহমদ, খুলনা জেলা প্রতিনিধি:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনার ফুলতলায় তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৮, ৯ ও ১০ মে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে রবীন্দ্র কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে, যা কবিগুরুর শ্বশুরবাড়ি হিসেবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে রোববার (৩ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় ফুলতলা উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়োজকরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়ে আসছে।
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে খুলনা জেলা পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা পর্যায়েও পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা উপজেলার ইউএনও সূচি রানি সাহা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ফুলতলা বিএনপির আহ্বায়ক চেয়ারম্যান আবুল বাশার, দামোদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুঁইয়া শিপলু, ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ শরিফ , এসিল্যান্ড ফুলতলা, উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মনির হাসান টিটোসহ স্থানীয় গণমাধ্যম প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ তোফাজ্জেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাব্বির আহমদ, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সামসুল আলম খোকন, সমাজসেবক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলে সতর্ক করেছেন ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি জনাব মোঃ শরিফ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকল নিরাপত্তাকর্মীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এদিকে, আয়োজক ও স্থানীয়দের দাবি—জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনা হওয়া সত্ত্বেও রবীন্দ্র কমপ্লেক্স এলাকায় তেমন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস, পর্যটন কেন্দ্র এবং সাংস্কৃতিক অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি রাস্তা উন্নয়ন, মাঠ সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আয়োজকরা আশা করছেন, তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন কবিগুরুর স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরবে এবং ফুলতলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত করবে।