
মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যস্ততম বটতলা মোড়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব ও সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সজীব মিয়া। তাঁর উপস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা বটতলা মোড়ের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও কাগজপত্র যাচাই করেন। এ সময় মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।
অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে। হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে কয়েকজন চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার শুধু আইন মানার বিষয় নয়, এটি চালকের নিজের জীবন রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সামান্য অসতর্কতার কারণে একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই প্রাণহানির কারণ হতে পারে। তাই চালকদের সচেতন করার পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের সময় চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক রয়েছে কি না এবং তারা সড়ক পরিবহন আইন অনুসরণ করছেন কি না, তা যাচাই করা হয়।
পুলিশ সদস্যরা চালকদের সতর্ক করে বলেন, সড়কে চলাচলের সময় প্রত্যেক চালককে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আইন অমান্য করে কোনো যানবাহন চলাচল করলে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বটতলা মোড়। প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় সামান্য বিশৃঙ্খলাতেই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। যত্রতত্র গাড়ি থামানো, নিয়ম না মেনে মোড় অতিক্রম করা এবং চালকদের অসচেতনতার কারণে অনেক সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
ট্রাফিক পুলিশের এ অভিযানে মোড়ে যানবাহন চলাচলে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসে। পুলিশ সদস্যরা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন এবং চালকদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেন।
স্থানীয়দের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা গেলে যানজট ও দুর্ঘটনা উভয়ই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সময়ের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ শহরে যানবাহনের সংখ্যা ও মানুষের চলাচল বাড়ছে। ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে প্রতিনিয়ত যানজটের চাপ তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে ট্রাফিক আইন না মানা, যত্রতত্র গাড়ি থামানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন চলাচলের মতো বিষয়গুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের একটি অংশ হেলমেট ব্যবহারে অনীহা দেখানোর কারণে দুর্ঘটনার সময় গুরুতর আহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা কোনো একদিনের কাজ নয়। চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষ সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে। যানজট নিরসন এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবু নাসের মোঃ জহির, সার্জেন্ট নুরুল হুদা, সার্জেন্ট আলআমিনসহ ট্রাফিক পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা।
কিশোরগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ।