
বাবার মৃত্যুশোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। প্রয়াত বাবা হোর্হেকে উদ্দেশ করে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ফুটবল চালিয়ে যাওয়া নিয়ে নিজের সংশয়ের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মেসি অবশ্য এখনো অবসরের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে ৩৯ বছর বয়সী বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের বক্তব্যে তাঁর ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত সপ্তাহে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে। বাবাকে হারানোর পর প্রথমবারের মতো নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মেসি জানান, বাবাকে ছাড়া কীভাবে এগিয়ে যাবেন এবং আর কতদিন ফুটবল চালিয়ে যাবেন—তা নিয়েই তিনি সংশয়ে আছেন।
শৈশব থেকে মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পাশে ছিলেন হোর্হে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ছেলেকে নিয়ে আর্জেন্টিনা ছেড়ে বার্সেলোনায় চলে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে মেসির প্রতিনিধি ও পরামর্শকের দায়িত্বও পালন করেন।
মেসির কাছে তাঁর বাবা শুধু অভিভাবক ছিলেন না, ছিলেন সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও বিশ্বস্ত সহযোগী। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বাবা তাঁকে সবসময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়েছেন।
সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপেও বাবার অসুস্থতা মেসির ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। হোর্হে ছেলেকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিযোগিতা শুরুর ঠিক আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে।
মেসির আশা ছিল, আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে তত দিনে তাঁর বাবা সুস্থ হয়ে মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবেন। প্রতিটি ম্যাচের পর বাবার কাছ থেকে বার্তার অপেক্ষায় থাকতেন তিনি। কিন্তু সেই বার্তা না আসায় বাবার শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা বুঝতে পারেন মেসি।
তারপরও বাবাকে আরেকটি বিশ্বকাপ দেখানোর আশায় যতদূর সম্ভব এগিয়ে যেতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলেও হোর্হে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও পূরণ হয়নি মেসিদের।
বাবার জন্য বিশ্বকাপ ট্রফি জিততে চাইলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না। বিশ্বকাপ শেষে আর্জেন্টিনায় ফেরার পর বাবার সঙ্গে টুর্নামেন্ট নিয়ে ঠিকভাবে কথাও বলতে পারেননি মেসি। অসুস্থতার কারণে হোর্হে মনে করেছিলেন, আর্জেন্টিনা ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরেছে।
ছোটবেলায় কাজ শেষে ছেলেকে নিয়মিত অনুশীলনে নিয়ে যেতেন হোর্হে। মেসির কোনো ম্যাচই তিনি বাদ দিতেন না। তবে ছেলে ভালো খেললেও অতিরিক্ত প্রশংসা করার অভ্যাস তাঁর ছিল না।
বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা নিজের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চান মেসি। আবেগঘন বার্তার শেষে তিনি বাবাকে ওপর থেকে পরিবারের দিকে নজর রাখার অনুরোধ জানান এবং তাঁর জীবনে বাবার অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও তাঁর বাবার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন। কঠিন এই সময়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে শক্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
এদিকে, ইন্টার মায়ামি মেসিকে বাড়তি ছুটি দিয়েছে। তিনি কবে আবার মাঠে ফিরবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বাবাকে হারানোর পর তাঁর আবেগঘন বক্তব্যের কারণে ফুটবল থেকে অবসরের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি।