
রনজিৎ সরকার রাজ, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ঘোষিত কোনো বালুমহাল না থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র বালু সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি মাঝারি ও বড় নির্মাণকাজসহ বেসরকারি বিভিন্ন নির্মাণকাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বালুর সংকটের কারণে সমস্যায় পড়েছেন ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে ধীরগতিতে চলছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।
স্থানীয়রা জানান, বিগত সরকারের আমলে নদী খনন করে উত্তোলন করা বালুর প্রাপ্যতা তুলনামূলক সহজ ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ সালের পর এ অঞ্চলে উত্তোলন করা বালু ইজারা দিয়ে অপসারণ করা হয়।
এ ছাড়া বীরগঞ্জের আত্রাই নদীর ঘোষিত শতগ্রামের বলদিয়াপাড়া ও সুজালপুর মাকড়াই বালুমহাল/বালুঘাট ইজারা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বালু সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বৃহৎ বালুমহালগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের নির্মাণকাজের ঠিকাদার এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণে স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
বীরগঞ্জের কাশিপুর মৌজার ৩৯১, ৩৯২ ও ৩৯৫ দাগে আত্রাই নদীর পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব তীরের দক্ষিণ দিকে প্রায় ১ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি বালুচর রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানটি একটি সম্ভাবনাময় বালুমহাল হতে পারে।
জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে জনৈক সোহেল রানা প্রযত্নে মোশাররফ হোসেন সম্ভাবনাময় এই স্থানটিকে সরকারি বালুমহাল ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে আসছেন।
ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত মহালের যৌথ সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত বালুমহাল সৃজন এবং মধ্যবর্তী সময়ে ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদনকারী ১৪৬৮৯/২৫ নম্বর রিট দায়ের করেছেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বালুর তীব্র সংকটের বিষয়ে বীরগঞ্জ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি আব্দুল বাসেত ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানসহ বিশিষ্ট ঠিকাদার সিরাজুল ইসলাম, আব্দুর রহমান ও আলম হোসেন জানান, বালুর তীব্র সংকটের কারণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন নির্মাণকাজ করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফরিদ হোসেন, মজিবর রহমান, সাজেদুর রহমান ও হামিদুল ইসলাম জানান, এলাকায় বালু না থাকায় দূরবর্তী এলাকা থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে বালু এনে নির্মাণকাজ করতে হচ্ছে। একই কথা জানিয়েছেন রাস্তা পাকাকরণ কাজের ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বালু সংকটের কারণে সব ধরনের নির্মাণকাজে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে কাজের গতিও কমে গেছে।
বালু সংকটের কারণে সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজে চরম সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, শতগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পাল্টাপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম, সুজালপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, শিবরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিৎ রায় কার্তিক, পলাশবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ সিদ্দিকী মানিকসহ বীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র ও বিএনপি নেতা মেহেদি হাসান।
বালুর সংকট নিরসনে গত ৬ সেপ্টেম্বর পুনরায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আত্রাই নদীর সম্ভাবনাময় ওই বালুচরটি দ্রুত বালুমহাল ঘোষণা করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারসহ আবেদন দাখিল করা হয়েছে।
আবেদনে প্রস্তাবিত বালুমহালটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানে আলমের সঙ্গে কথা হলে তিনি আবেদনকারীকে দেওয়া আবেদন এবং সংসদ সদস্যের ডিও লেটার পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে সুরাহা করা হবে।”
একই বিষয়ে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বালু সংকটের তীব্রতা এবং এর কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, “বালুর প্রাপ্যতা সহজ করতেই জনস্বার্থে আত্রাই নদীতে আবেদনকৃত বালুচরটি বালুমহাল ঘোষণার কার্যক্রম হাতে নিয়ে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে আবেদনকারীকে ইজারা দেওয়ার জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ডিও লেটারে অনুরোধ করেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই প্রস্তাবিত কাশিপুর বালুমহাল চালু হবে।”