নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পণ্য চুরি, স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভারত থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পণ্য খালাস ও সংরক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে রহস্যজনকভাবে মালামাল কম পাওয়া যায় বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর প্রতিকার পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র আরও দাবি করেছে, বন্দরের একজন শ্রমিক নেতা এবং বিএনপি নেতা শহিদ আলী ওরফে বড় শহিদ ও শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী শহিদ ওরফে গোল্ড শহিদ সীমান্ত এলাকার এসব অভিযোগের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, বন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, গেট পাস, গুদাম রেকর্ড, পণ্য খালাসের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ ও অন্যান্য চোরাচালান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত যে-ই হোক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
সাগর হত্যা মামলাও আলোচনায়
সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদলী গ্রামের সাগর নামে এক যুবকের হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে এ ঘটনায় একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
এই বিষয়ে বেনাপোল বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মামলাটির এখনো তদন্ত চলতেছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে আর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য তিনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরবর্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে কিন্তু ৩ মাস পূর্বের ঘটনা হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ঐ দিনের কোন সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দিতে পারতেছে না কারন তারা ৪৫ দিনের সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করে থাকে। এখন তিনি ঐ দিনে যেসকল শ্রমিকরা কাজ করেছিলো তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা করতেছেন, এ জন্য মামলাটি তদন্ত করতে একটু সময় লাগতেছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারের সাথে তার অফিসিয়াল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে কোন রেসপন্স পাওয়া যায় নাই।
স্থানীয়দের দাবি, বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য চুরি, সীমান্ত চোরাচালান এবং সাগর হত্যা—এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার বিষয়টি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।