মো: মিজানুর রহমান (মিজান মৃধা),
ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলারচর গ্রামে সাতৈর-মধুমতি (গ্রান্ড ট্রাঙ্ক) সড়কের হাটখোলা বটতলা সংলগ্ন রাস্তার পাশ থেকে রবিউল ইসলাম (৩৩) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহত রবিউল ইসলাম পার্শ্ববর্তী মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম ছরোয়ারের ছেলে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন হাটখোলা বটতলা থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি প্রাইভেটকার রাস্তার পাশে খাদে উল্টে থাকতে দেখে। বিষয়টি জানতে এগিয়ে গেলে প্রাইভেটকারের পাশে বাগানে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা প্রাইভেটকারের নিকটে উপস্থিত ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় জনতা ২ জনকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়। এ সময় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ২ জনকে আটক করা হয়।
নিহত রবিউলের বাবা গোলাম ছরোয়ার জানান, তাদের গ্রামের শাহিদুলের মেয়েকে ময়না ইউনিয়নের হাটখোলা গ্রামের হানিফের ছেলে শহিদুলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে শহিদুল তাদের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। সেই মোটরসাইকেল ফেরত আনতে শাহিদুল রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে আসে। এখানে আসার পরই এ ঘটনা ঘটে। তিনি তার ছেলের হত্যার বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে মধুখালী সার্কেলের এএসপি মো. আজম খান বলেন, হাটখোলারচর গ্রামে একটি প্রাইভেটকার উল্টে পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশে একটি মরদেহ দেখতে পান। এ সময় সন্দেহজনক ২ জনকে আটক করে জনতা। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের শাহিদুল ইসলাম রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে তার মোটরসাইকেল আনতে শ্বশুরবাড়িতে আসে। সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে শালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তারা চলে যায়। এরপর পুনরায় মোটরসাইকেল নিতে এলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হাটখোলারচর গ্রামের শাহিদুল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আদালতে পাঠানো হবে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।