
ইমদাদুল হক তৈয়ব
আধুনিক ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ, দূরদর্শী ও মানবিক শিক্ষা-প্রশাসক তৈরির লক্ষ্যে মাদরাসায়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘ইতমিনান’-এর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘ইতমিনান পরিচালক কর্মশালা’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১, ২ ও ৩ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ডগাইর আল আমিন রোডে অবস্থিত মাদরাসায়ে আবু হুরায়রা (রা.)-এর প্রধান শাখায় আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন শাখা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও দ্বীনি ব্যক্তিত্ব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মূসা খান।
জ্ঞানচর্চা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষক উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত এ কর্মশালার প্রতিটি সেশন ছিল বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও ইসলামী শিক্ষাদর্শে সমৃদ্ধ। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কর্মশালাটি ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
কর্মশালার প্রথম দিনে ‘ইলমের দাওয়াতের পদ্ধতি’, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, নূরানী, হিফজ ও কিতাব বিভাগের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক স্কুল পরিচালনার কৌশল, সুন্দর হস্তাক্ষর চর্চা, কার্যকর মিটিং পরিচালনা, সাপ্তাহিক পরীক্ষা গ্রহণ, হিসাব সংরক্ষণ এবং মহিলা মাদরাসা পরিচালনার নীতিমালা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে শিক্ষকদের আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, শিশুদের বর্ণ ও বানান শিক্ষা, শ্রেণীকক্ষ ও বাড়ির কাজ মূল্যায়ন, নূরানী শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

তৃতীয় ও সমাপনী দিনে শিক্ষক মোটিভেশন, বেতন ব্যবস্থাপনা, অভিভাবক সভা পরিচালনা, প্রশাসনিক কাঠামো, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, মাসিক ও সাপ্তাহিক পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শ্রেণীকক্ষে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন পরিহার করে ভালোবাসা, উৎসাহ ও ইতিবাচক প্রেরণার মাধ্যমে শিক্ষাদানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মূসা খান বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সফলতা শুধু অবকাঠামো বা শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না; বরং পরিচালকদের দূরদর্শিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং আল্লাহভীতির ওপর নির্ভর করে। একজন শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না, তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণ করেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠান পরিচালনা একটি ইবাদতস্বরূপ দায়িত্ব। নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচালিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমাজে কল্যাণ, নৈতিকতা ও মানবিকতার বাতিঘর হয়ে উঠতে পারে।”
অংশগ্রহণকারী পরিচালকদের মতে, এই কর্মশালা শুধু একটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা-ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আধুনিক কৌশল, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী মনস্তত্ত্ব, অভিভাবক সম্পৃক্ততা এবং কার্যকর নেতৃত্ব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
ছবি : ইতমিনান পরিচালক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী এক পরিচালকের হাতে সনদ তুলে দিচ্ছেন প্রধান প্রশিক্ষক হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মূসা খান।
সমাপনী পর্বে দেশ, জাতি, উম্মাহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সময়োপযোগী ও কার্যকর প্রশিক্ষণ কর্মশালার ধারাবাহিক আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
“ইলমের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ, আদর্শ শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে উঠুক নৈতিক ও দক্ষ প্রজন্ম”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখেই সফলভাবে সমাপ্ত হয় ইতমিনানের তিন দিনব্যাপী পরিচালক কর্মশালা।