বিশেষ প্রতিনিধি
এবং ব্ল্যাকমেইলিং এর বৃত্তান্ত:
১। পারিবারিক পরিচয়:
বাংলাদেশের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া থানার জিনিদকরা গ্ৰামের বিত্তবান, প্রভাবশালী ও বনেদি বংশ হলো চৌধুরী পরিবার। যারা এলাকায় অতি সজ্জন ও দানশীল হিসেবে পরিচিত। ঢাকার কলাবাগানের বশির উদ্দিন রোডের মসজিদের গলিতে ৯/৩ নং বাড়ীর নীচতলায় বসবাস করেন এই চৌধুরী বংশেরই অযোগ্য কুলাঙ্গার সন্তান নোমান চৌধুরী (৫৩) যিনি তার যৌবন থেকেই নারী, মদ আর জুয়ায় আসক্ত বলে খ্যাত। পরিবারে আছেন তার ব্যাভিচারী স্ত্রী ফাতেমা আক্তার মুক্তা (৪৩) এবং ইয়াবা ও বিকৃত যৌন সম্ভোগে আসক্ত তাদের দুই কু-সন্তান হ্যাকার ফাহিম চৌধুরী নাফি (৩০) ও হ্যাকার আমান চৌধুরী নাকিব (২৬)। মা ফাতেমা আক্তার মুক্তা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আদি নিবাসী মজুমদার পরিবারের মেয়ে। ৭১-এ যুদ্ধের আগেই এই মজুমদার পরিবারের একাংশ ভাগ্যান্বেষণে বাংলাদেশে চলে আসে এবং কুমিল্লার চিড়া থানার পায়ের কোলা গ্ৰামে বসবাস শুরু করেন।
২। ঘটনার শুরু:
২০০৫-৬ সালে বিভিন্ন জায়গার মানুষকে ঠকিয়ে, ব্ল্যাকমেইল করে বেশ কিছু টাকা একাট্টা করে কুলাঙ্গার নোমান চৌধুরী তার পরিবারসহ ভুতের গলির এলাকায় ৭৬/৭৭ নং কেয়ার স্বপ্নপুরী বিল্ডিং এর ২য় তলায় এ-২ ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন। এঢাকারখানে তাদের অপরাuধের সঙ্গী হন একই বিল্ডিং এর ১ম তলার ই-১ ফ্লাটের গোপালগঞ্জ নিবাসী সৃজন যার বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট পাঠানোর ব্যবসা ছিল। সেই সুত্রে তার ফ্লাটে রাত ৮ টার পর থেকে ও-লেভেল, এ-লেভেলের ইয়ং স্টুডেন্ট বিশেষ করে মেয়েরা আসত যারা পরবর্তীতে রাত ২-৩ টার পর অসংলগ্ন অবস্থায় ঐ ফ্লাট ত্যাগ করত। তাদের অবস্থানকালীন সময়ে ঐ ফ্লাটের আশপাশ এলকোহল, ইয়াবা ও গাঁজর ঘ্রাণে মৌ মৌ করত। এ বিষয়ে তার বিপরীতের ফ্লাট এ-১ এর বাসিন্দা সৃজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এরূপ অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য বারংবার চাপাচাপি করলে সৃজন একদিন বাধ্য হয়ে তার কাছে থাকা এ-১ ফ্লাটের বাসিন্দার কনজুগাল লাইফের প্রাইভেট মোমেন্টের রেকর্ডেড ভিডিও মোবাইলে তাকে দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করার হুমকি প্রদান করে এবং পরবর্তীতে কিছুদিনের মধ্যেই নোমান চৌধুরী ও তার ছেলেদের সহযোগিতায় এলাকার উঠতি বয়সের তরুনদের সাহায্য নিয়ে প্রায় ৫০-৬০ জন মিলে ঐ ভিকটিমকে ও তার সহযোগী ২-৩ জন ছোট ভাইকে মারধর করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।
এসময় নোমান চৌধুরী ভারতীয় স্বজনদের কাছে থেকে শেখা ব্ল্যাকমেইলিং এর নতুন কৌশল বাংলাদেশে তার ছেলেদের সাথে নিয়ে ঐ এলাকার বিভিন্ন বয়স ও পেশার আরো বেশ কিছু মানুষ একত্রে মিলে ভুতের গলির আশেপাশে গ্ৰীনরোড, কলাবাগান ধানমন্ডি সহ বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ইলেকট্রিশিয়ান, এসি মেকানিক, ইন্টারনেট টেকনিশিয়ান এবং ডিস লাইন টেকনিশিয়ান নিয়োগ করেন। তারা প্রতিনিয়ত এই সব এলাকায় রেকি করতে থাকত এবং সকল খালি ফ্লাটের কেয়ার-টেকারদের সাথে লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলে। যেখানেই নতুন ভাড়াটিয়া আসত সেখানেই সকল হোম ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য তাদের ডাক পড়ত। সার্ভিস দেয়ার সুযোগে তারা বিভিন্ন ফ্লাটের বেডরুম ও বাথরুমে সুবিধাজনক অলক্ষ্যনীয় স্থানে একাধিক ব্যাটারি সিস্টেম হিডেন ক্যামেরা (বর্তমানে সোলার সিস্টেম হিডেন ক্যামেরা) সেট করে আসত। ব্যাটারি শেষ হলে বা ক্যামেরায় কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে ইন্টারনেটের লাইন অথবা ডিসের লাইনেও সমস্যা দেখা যায়। ফলে আবার তাদের ডাক পড়ে এবং ক্যামেরার সমস্যাও সলভ হয়ে যায়।
এভাবে ভিকটিমদের কনজুগাল লাইফের প্রাইভেট মোমেন্টগুলো বিভিন্ন অনলাইন প্রাইভেট চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে ও দেশের বাইরে ভারতসহ অন্যান্য দেশে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। আবার রেকর্ডেড ভিডিওর মাধ্যমে ভিকটিম ও তার পরিবারকে করা হয় ব্ল্যাকমেইল। এভাবে ব্ল্যাকমেইল এর শিকার হয়ে বহু ভিকটিম করেছে আত্মহত্যা, কেউবা বেছে নিয়েছে নেশার পথ আবার কেউবা হয়েছে রাস্তার পাগল। কেউবা বাধ্য
হয়েছে নিজের মেয়ে বা স্ত্রীকে অন্যের হাতে তুলে দিতে তাদের বিকৃত যৌন সম্ভোগের দাসী হিসেবে।
৩। হ্যাকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ:
ভারত থেকে ২০০৮-৯ সালে এই পরিবারের হাতে চলে আসে তৎকালীন ইসরাইলি সর্বাধুনিক সার্ভিল্যান্স হ্যাকিং প্রযুক্তি আরএনএন-৬ যা বর্তমানে পেগাসাস-৩ নামে পরিচিত। পরবর্তীতে একইভাবে ২০১১-১২ সালে তাদের হাতে পৌঁছায় সর্বাধুনিক ভার্চুয়াল ক্লোনার প্রযুক্তি এবং সফটওয়্যার যার মাধ্যমে মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে যে কোন সিম নাম্বারকে ভার্চুয়ালি ক্লোন করে সেই সিমটি যেই বাটন বা স্মার্টফোনে ইউজ করা হচ্ছে সেই ফোন সেটটি…