মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার || ফটো চিএে, আপোষ জয়ধর,
সকাল ১১টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও সাড়ে ১২টার পর তা ভারী আকার ধারণ করে এবং প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অল্প সময়ের এই বৃষ্টিতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রবর্ওক মোড়, মেডিকেলের সামনে পানির নিচে চলে যায়।
প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, সহ একাধিক এলাকায় কোথাও কোমর, কোথাও বুকসমান পানি জমে যায়। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে পানি সড়ক ছাড়িয়ে বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়ে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং অনেক গাড়ি মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ে।
নিচু এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে প্রবর্তক মোড় ও মুরাদপুর এলাকায় পানির উচ্চতা কোমর থেকে বুকসমান হওয়ায় দুপুরের দিকে সড়কগুলোতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবীরা। চলমান এসএসসি পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষা শেষে যানবাহন না পেয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হয়েছে, কিন্তু অনেক জায়গায় পানির কারণে চলাচলই কষ্টকর হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই দ্রুত পানি জমে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ে এবং পানি নামতে দীর্ঘ সময় লাগায় দুর্ভোগ বাড়ছে। আগে টানা কয়েকদিন বৃষ্টির পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও এখন স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে বলে তারা জানান।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৬ মিলিমিটার। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে আগামী ৯৬ ঘণ্টায় আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।