
দুটি ব্যালট, পোস্টাল ভোট—ফল পেতে লাগতে পারে বাড়তি সময়
নিজস্ব প্রতিবেদক || ১২ ফেব্রুয়ারি 2026
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Parliamentary Election) এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট (Referendum)। একই সঙ্গে দুটি ভোট এবং প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালট (Postal Ballot) ব্যবহারের কারণে ফল প্রস্তুত করতে কিছুটা বাড়তি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
| পর্যায় | প্রধান কার্যক্রম | ব্যবহৃত ফরম/পদ্ধতি |
|---|---|---|
| ১. ভোট গ্রহণ শেষ | বিকেল ৪:৩০ মিনিটে ব্যালট বাক্স সিলগালা | এজেন্টদের উপস্থিতিতে লক |
| ২. ব্যালট বাছাই | সাদা (সংসদ) ও গোলাপি (গণভোট) ব্যালট পৃথক | বর্ণভিত্তিক সর্টিং |
| ৩. ফল প্রস্তুত | অংক ও কথায় ভোটের সংখ্যা লেখা | ১৬ নম্বর ফরম |
| ৪. প্রাথমিক ঘোষণা | কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে ফল টানানো | প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর |
| ৫. ডিজিটাল এন্ট্রি | ইসির সার্ভারে তথ্য আপলোড | RMS (Result Management System) |
| ৬. চূড়ান্ত ঘোষণা | পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করে ফল ঘোষণা | রিটার্নিং কর্মকর্তা |
এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোট চলবে।
ভোট শেষে প্রতিটি কক্ষের ব্যালট বাক্স প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের সামনে সিলগালা করে গণনা কক্ষে নেওয়া হবে।
সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট ও গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হবে।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকলে বা ভুলভাবে সিল দেওয়া হলে ব্যালট বাতিল গণ্য হবে।
প্রার্থীদের এজেন্টদের সামনে প্রতীকভিত্তিক বান্ডিল করে ভোট গণনা করা হবে। একই সঙ্গে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট আলাদাভাবে গণনা হবে।
গণনা শেষে ১৬ নম্বর ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রস্তুত করা হয়। এতে—
ভোটের সংখ্যা অংকে ও কথায় লিখতে হয়
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টরা স্বাক্ষর করেন
একটি কপি নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়
অন্য কপিগুলো সিলগালা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়
এই প্রক্রিয়া ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে ফল ঘোষণা এবং একই সঙ্গে ইসির রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RMS)-এ তথ্য আপলোডের কারণে ফল টেম্পারিং বা কারচুপি করা অত্যন্ত কঠিন।
তবে অতীতে এজেন্টদের বের করে দেওয়া বা কেন্দ্র দখলের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করার নজির রয়েছে।
প্রবাসী ভোটার, সরকারি চাকরিজীবী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তা সবার সামনে গণনা করবেন।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলের সঙ্গে পোস্টাল ভোট যোগ করে সংশ্লিষ্ট আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
কোনো প্রার্থী অসন্তুষ্ট হলে তিনি—
পুনঃগণনার আবেদন (Recounting)
অথবা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা
করতে পারবেন।
প্রশ্ন: ১২ ফেব্রুয়ারি কীসের ভোট?
উত্তর: একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোট।
প্রশ্ন: ব্যালটের রঙ কী?
উত্তর: সংসদ নির্বাচন—সাদা, গণভোট—গোলাপি।
প্রশ্ন: ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে কেন?
উত্তর: দুটি ব্যালট গণনা এবং বিপুল পোস্টাল ভোট যুক্ত করার কারণে।
প্রশ্ন: ভোট গণনা কি উন্মুক্তভাবে হয়?
উত্তর: পোলিং এজেন্ট, অনুমোদিত সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে গণনা হয়।
প্রশ্ন: ফল নিয়ে আপত্তি থাকলে কী করবেন?
উত্তর: পুনঃগণনার আবেদন বা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা যায়।
প্রশ্ন: কেন্দ্রভিত্তিক ফল কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর: কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড, ইসির অফিসিয়াল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে।
ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফল তৈরির প্রক্রিয়া বহুস্তরীয় ও নিয়মতান্ত্রিক। ব্যালট বাছাই থেকে শুরু করে ১৬ নম্বর ফরম প্রস্তুত, ডিজিটাল এন্ট্রি এবং পোস্টাল ভোট যোগ—সব মিলিয়ে একটি স্বচ্ছ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়।
এবার দুটি ভোট একসঙ্গে হওয়ায় ফল পেতে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও নির্বাচন কমিশন বলছে, স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।