মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শালিখা বিলসহ ভবদহ সংলগ্ন এলাকার কৃষি জমি ধ্বংস এবং দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারন অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা মৎস্য ঘের অনেকাংশেই দায়ী বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে,অবৈধভাবে উঁচু বাঁধ নির্মাণ,পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা এবং কৃষি জমিকে মাছের ঘেরে রূপান্তরের ফলে এই অঞ্চলের হাজার হাজার একর জমিতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
ঘের মালিকরা মাছ চাষের জন্য বিলের পানি আটকে রাখতে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মাণ করে এই বাঁধগুলো স্বাভাবিক পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।যার ফলে বর্তমান কৃষি জমিগুলোও বাধ্য হয়ে কৃষকেরা ঘের মালিকদের প্রলোভনে পড়ে কৃষি জমি গুলো মৎস্য ঘেরে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
কৃষি জমিকে মৎস্য ঘের তৈরির কোন নীতিমালা মানছে না ঘের মালিকগন।ধান চাষের জমি অবৈধভাবে পুকুরের মত গর্ত করে বা বাঁধ দিয়ে মাছের ঘেরে পরিণত করা হচ্ছে। এর ফলে ধানের উৎপাদন কমে যাচ্ছে,গৃহপালিত পশুর খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে এবং স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।
ঘেরের ভেতরের পানি নিষ্কাশনের জন্য অনেক সময় পানি সেচে ক্যানেলে ফেলানো হয় সেই পানি সামনের দিকে না যেয়ে উপরের দিকে পানি প্রবাহিত হয়ে কৃষকের বোরোধানের ক্ষতি করে।পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল গুলি ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতাকে স্থায়ী রূপ দেখা দেয়।
ভবদহে পানি নিষ্কাশনের জন্যে খনন কাজ শুরু না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে কৃষি জমি পানির নিচে থাকায় বোরো ধানসহ নানা ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছিলো না এ কারনে গোপালপুর গ্রামের কৃষকেরা জমি গুলি বছরে একবার বোরো ধান করার চুক্তিতে ১০ বছরের জন্যে লীজ দেয় এম এ হালিমের নিকট কিন্তু কৃষকরা বলেছেন ৩ বছর ধান করতে দিয়ে আর ধান চাষাবাদ করতে দেয় নি।
সম্প্রীত ১০ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কৃষকদের লীজের চুক্তির টাকা দিয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে কৃষকের কৃষি জমি গুলো পুকুরের মত খনন করে কৃষি জমি ধ্বংস করছে।
কৃষকদের দাবী আমরা নতুন করে হালিমকে ঘের তৈরি করার জন্যে জমি দেয় নি কিন্তু সে জোর পূর্বক আমাদের জমিতে গর্ত করে আমাদের কৃষি জমি নষ্ট করছে।
এদিকে সেলিমপুর টু মাছনা নতুন বাজারের সরকারি রাস্তা থেকে ঘেরের ভেড়ি উচু হওয়ার কারনে রাস্তার দুই পাশে পানি জমে থাকায় রাস্তাটিতে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ বাধ অপসারন করার চেষ্টা করা হলেও শালিখা বিলে তার কোন প্রভাব পড়েনি।