মনিরামপুর প্রতিনিধি: নয়ন রায়
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের শালিকা বিলে কৃষিজমি ও মাছের ঘের নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রকৃত জমির মালিক নন—এমন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ করিয়ে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন জমির মালিক ও এলাকাবাসীর দাবি, বিরোধপূর্ণ পুরোনো মাছের ঘেরের বিষয়ে মহিলা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী মুক্তা খাতুনের নেতৃত্বে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। তবে সেখানে অংশগ্রহণকারী অনেকেই সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শালিকা বিলের কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে এবং কৃষিজমিতে পুনরায় মাছের ঘের সংস্কারের বিরোধিতা করে কিছু জমির মালিক প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। পরে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে মুক্তা খাতুন গণমাধ্যমকে বলেন, জমির মালিক জাহিদ ও শুভ ঘেরে জমি দিতে রাজি না হওয়ায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে জাহিদ ও শুভ দাবি করেন, এম এ হালিমের সঙ্গে পূর্বে সম্পাদিত চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে, ঘের পুনঃসংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী খননকাজ পরিচালনা করবেন এবং জমির মালিকরা এতে আপত্তি করতে পারবেন না। ওই শর্তের কারণে তাঁরা এবং আরও কয়েকজন কৃষক নতুন করে মাছের ঘেরের জন্য জমি দিতে অনাগ্রহী হন। এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও জমা দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মানববন্ধনের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ ঘেরের মধ্যে তাঁর ৮৪ শতক জমি রয়েছে। তবে পরবর্তীতে তিনি জানান, জমিটির মালিক তাঁর বাবা শরীয়তুল্লাহ এবং জমিটি বন্ধক রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এ সংক্রান্ত কল রেকর্ড তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, "যারা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে প্রকৃত জমির মালিক দুই থেকে তিনজন হতে পারেন। বাকিরা কোন স্বার্থে সেখানে অংশ নিয়েছেন, সেটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।"
অন্যদিকে, মুক্তা খাতুন ও আব্দুল লতিফের দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জমির মালিক ও এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে জমির মালিকদের হয়রানির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জমির মালিক জাহিদ ও শুভ বলেন, "শালিকা বিলের ঘের নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এতে প্রকৃত জমির মালিক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।"
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গত ৮ জুন মুক্তা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদক জানান।
ঘের-সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত পক্ষ ও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তারা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, "বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
প্রতিবাদকারীরা সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন।