ইহক তৈয়ব:: দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ও বহুমুখী মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমে এক অনন্য নাম ‘আল-মারকাজুল ইসলামী বাংলাদেশ’। ১৯৮৮ সালে হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল ইসলাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই অরাজনৈতিক ও অলাভজনক দাতব্য সংস্থাটি বর্তমানে তরুণ সমাজসেবক ও বিশিষ্ট আলেম হাফেজ মাওলানা শায়েখ হামজা শহিদুল ইসলামের সুদক্ষ নেতৃত্বে তাদের সেবামূলক কার্যক্রম দেশজুড়ে আরও বেগবান করেছে।
দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা ও তার অনন্য গুণাবলি:

সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ মাওলানা মুফতি শহিদুল ইসলাম (রহ.) ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত আলেম, দূরদর্শী সংগঠক এবং সমাজসংস্কারক। সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার সেবা করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল ব্রত। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, গভীর ধর্মীয় জ্ঞান এবং আর্তমানবতার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কারণে তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে বা মহামারীতে নিজে সশরীরে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এক অদম্য ও সাহসী মানসিকতা তাঁর ছিল। তাঁর এই নিঃস্বার্থ মানবিক চেতনার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে আজকের আল-মারকাজুল ইসলামী।
যোগ্য উত্তরসূরির গতিশীল ও আধুনিক নেতৃত্ব:
পিতার মৃত্যুর পর আল-মারকাজুল ইসলামীর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে হাল ধরেছেন তাঁরই সুযোগ্য সাহেবজাদা হাফেজ মাওলানা শায়েখ হামজা শহিদুল ইসলাম। তাঁর বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত গতিশীল, আধুনিক ও যুগোপযোগী। সনাতন সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি এই সংস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এনেছেন। তরুণ প্রজন্মের এই নেতার দূরদর্শিতায় সেবামূলক কার্যক্রমগুলো এখন আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে যুব সমাজকে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ করা, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় সাধন এবং কেরাণীগঞ্জের মেগা প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়নে তাঁর সুপরিকল্পিত ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সর্বমহলে সমাদৃত হচ্ছে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ শিক্ষা:

আল-মারকাজুল ইসলামী বর্তমানে দেশের ১২টি মাদরাসা ও এতিমখানার মাধ্যমে প্রায় ৫,০০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। কেরাণীগঞ্জের বিশাল একাডেমিক সিটিতে কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসসহ ইসলামী আইন (ইফতা) ও আরবি সাহিত্যের ওপর উচ্চতর গবেষণার সুযোগ রয়েছে। যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষার বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষ করে, ১৯৯৬ সাল থেকে দেশে প্রথমবারের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন ও আধুনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে সংস্থাটি।
চিকিৎসাসেবা ও করোনায় অবিস্মরণীয় অবদান:

অসহায় ও দুস্থ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকার মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীতে পরিচালিত হচ্ছে ‘আল-মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল’। এখান থেকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক চিকিৎসা ও ২৪ ঘণ্টা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ওষুধ ও চিকিৎসা পৌঁছানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর চরম সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষের যখন আপনজনরা পাশে ছিল না, তখন আল-মারকাজুল ইসলামীর স্বেচ্ছাসেবকরা ঢাকায় এককভাবে প্রায় ৬,৫০০ লাশের কাফন-দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করে ইতিহাস গড়েছিলেন। বর্তমানেও যেকোনো বেওয়ারিশ বা অসচ্ছল মরদেহের শেষ বিদায়ের সব দায়িত্ব সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পালন করছে এই প্রতিষ্ঠান।
সামাজিক পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:

সংস্থাটির এতিমখানাগুলোতে বর্তমানে ৩৭৫ জন এতিম শিশু সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসন, খাদ্য ও পড়াশোনার সুবিধা পাচ্ছে। দেশের উপকূলীয় ও সুপেয় পানির সংকটপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে নিয়মিত টিউবওয়েল ও ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপন করছে সংস্থাটি। এছাড়াও দেশের যেকোনো বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন সামগ্রী নিয়ে সবার আগে পৌঁছে যায় আল-মারকাজুল ইসলামীর টিম। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ফিলিস্তিনের গাজাসহ বৈশ্বিক মানবিক সংকতেও সংস্থাটি সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে।
মহাপরিকল্পনায় আগামীর বাংলাদেশ:
মানবসেবাকে আরও বিস্তৃত করতে কেরাণীগঞ্জের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’, আধুনিক ‘মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ এবং ১০ তলা বিশিষ্ট একটি সমৃদ্ধ উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কাজ বর্তমান চেয়ারম্যানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত এই প্রতিষ্ঠানের কল্যাণমুখী কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং আপনাদের যেকোনো জাকাত, সদকা বা অনুদান সরাসরি পৌঁছাতে ভিজিট করুন তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.almarkazulislami.org