Dhaka ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বুড়িচংয়ে ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা চটগ্রাম সিটিজেনস ফোরাম মহানগরের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বকশিগঞ্জে মরহুম উজির আলী আকন্দ পরিবারের পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ  ইনিউইয়র্কে শাহ নেওয়াজ গ্রুপের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান দানপঞ্চগড় একজন নারী নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগ মোবাইল ও নগদ টাকাড়াইলে হারিয়ে যাওয়া  আনুষ্ঠানিক ভাবে হস্তান্তর করলেন এসপি আল মামুন শিকদার সময় পেরিয়েও অটুট: বন্ধুত্বের পুনর্জাগরণে এসএসসি ক্লাব ’৯৪ মানিকগঞ্জের মিলনমেলা হকার ভাইদের ও পথ চলতি ক্রেতা বিক্রেতাদের জন্য- ইফতার পার্টি  কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবে ঈদ উপহার হিসেবে পাঞ্জাবি বিতরণ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

মীরসরাইয়ে খাল পুনঃখননের মহাযজ্ঞ: কৃষি-অর্থনীতিতে আসছে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর—অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ১২ Time View

 

 

মোঃ শহিদুল ইসলাম,
বিশেষ প্রতিবেদক:


চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের কৃষি, পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” মন্ত্রী জানান, অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে প্রতিটি প্রকল্প যথাযথভাবে কস্টিং ও বাজেটিং করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গতকাল মীরসরাই উপজেলার মলিয়াইশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এত বড় কর্মসূচি একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সুপরিকল্পিত উপায়ে ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

খাল পুনঃখননের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি খালের কাজ শেষ হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষক উপকৃত হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।

খাল দখলমুক্তকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। ইতোমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারি মালিকানা রয়েছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে থাকতে পারবে না।” তিনি জানান, ডিমারকেশন শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি কৌশলগত উদ্যোগ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মোহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মীরসরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়াতেই সহায়ক হবে না; বরং জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় নিউজ

বুড়িচংয়ে ইউরিয়া সারের অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

মীরসরাইয়ে খাল পুনঃখননের মহাযজ্ঞ: কৃষি-অর্থনীতিতে আসছে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর—অর্থমন্ত্রীর আশাবাদ

Update Time : ০৯:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

 

 

মোঃ শহিদুল ইসলাম,
বিশেষ প্রতিবেদক:


চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের কৃষি, পরিবেশ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “খাল পুনঃখনন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।” মন্ত্রী জানান, অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখে প্রতিটি প্রকল্প যথাযথভাবে কস্টিং ও বাজেটিং করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গতকাল মীরসরাই উপজেলার মলিয়াইশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বামনসুন্দর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ছয় মাসে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এত বড় কর্মসূচি একদিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সুপরিকল্পিত উপায়ে ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

খাল পুনঃখননের সুফল তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একটি খালের কাজ শেষ হলে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এর ফলে কৃষক উপকৃত হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।

খাল দখলমুক্তকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। ইতোমধ্যে এসব খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। যেখানে সরকারি মালিকানা রয়েছে, সেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দখল করে থাকতে পারবে না।” তিনি জানান, ডিমারকেশন শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের একটি কৌশলগত উদ্যোগ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সেচ) মোহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মীরসরাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়াতেই সহায়ক হবে না; বরং জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।