
শহিদ শেখ পাখি, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দেওয়ানকান্দি এলাকায় এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ডোংগা’। মাত্র দেড় থেকে দুই হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি এই ছোট বাহনটি এখন এলাকার কয়েকশ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান অনুষঙ্গ।প্রায় ১৫ বছর আগে কুষ্টিয়ার নদী ভাঙনে সব হারিয়ে মুন্সীগঞ্জের দিঘীরপাড় ও দেওয়ানকান্দি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় ২০০টি পরিবার। তারা তাদের সাথে করে নিয়ে আসে মাছ শিকারের নিজস্ব কৌশল ও হাতে তৈরি বাহন ‘ডোংগা’। বর্তমানে তারা এই এলাকায় মাছ শিকার, কৃষি কাজ এবং গবাদি পশু পালন করে জীবন অতিবাহিত করছেন।

স্থানীয়দের মতে, একটি ডোংগা তৈরি করা অত্যন্ত সহজ এবং সাশ্রয়ী। মাত্র একটি ঢেউটিন আর ছোট একটি কাঠের টুকরো দিয়ে নিজেদের হাতেই তারা এটি তৈরি করেন। এতে খরচ হয় মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা।জাহাঙ্গীর মন্ডল নামে এক বাসিন্দা জানান: “আমরা প্রতিদিন এই ডোংগায় চড়ে নদী পার হয়ে চর বেরপারা ও রাজাবাড়ীর চরে গিয়ে কৃষি কাজ করি। আসার সময় চরের ঘাস কেটে ডোংগায় করে নিয়ে আসি। এছাড়া নদীতে মাছ ধরতেও এটি ব্যবহার করা হয়।”

ডোংগা ব্যবহারের বেশ কিছু বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই বললেই চলে। ওজনে হালকা হওয়ায় চুরির কোনো ভয় নেই; কাজ শেষে সহজেই এটি মাথায় করে বাড়িতে নিয়ে আসা যায়।স্থানীয় বাসিন্দা নুলুর হক ফরাইজী জানান, কুষ্টিয়া থেকে আসা এই পরিবারগুলো দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই এলাকায় ডোংগা ব্যবহার করছে। তাদের দেখাদেখি এখন অনেক স্থানীয় মানুষের কাছেও এটি পরিচিতি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এটি নদী পারাপার ও মাছ ধরার অত্যন্ত কার্যকর একটি বাহন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের নদ-নদীতে প্রথম এই ডোংগার প্রচলন কুষ্টিয়া থেকে আসা এই পরিবারগুলোই করেছে, যা এখন এলাকার চরাঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।
Reporter Name 



























