
নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামে গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূ মোছাঃ সাহিদা আক্তার (২১)-এর পরিবার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার বাখরপুর গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ মোনাইদ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাঃ সাহিদা আক্তার বিষপান করেন।
ঘরের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ মর্গে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে স্বজনরা মরদেহ নিজ বাড়িতে এনে দাফন সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনায় নিহত সাহিদা আক্তারের বাবা মোঃ শহিদ মিয়া মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি স্বামী মোঃ মোনাইদ হোসেনসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করেন। এ ঘটনায় মোহনগঞ্জ থানায় মামলা (নং-১) রুজু হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মামলার আসামিরা পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে জামিনে এসে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে এবং মামলা তুলে নিতে বাদী পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে আরও বলা হয়, নিহত সাহিদার সঙ্গে মোঃ মোনাইদ হোসেনের পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি বিয়েতে গড়ায়। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ ও নির্যাতনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাহিদার ওপর বিভিন্ন সময় চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে তিনি বিষপানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।