স্টাফ রিপোর্টার
প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে মাসুক সরদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রকাশ্যে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন এবং তাকে কেউ থামাতে পারছে না।
স্থানীয়দের দাবি, বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও মাসুক সরদার তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক বছরে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিগত সরকারের সময় তিনি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই সময় থেকে যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি একইভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এক বিএনপি নেতা ও স্থানীয় এক সাংবাদিককে সুবিধা দেওয়ার কারণে তারা তাকে বিভিন্নভাবে আড়াল করছেন। এ কারণেই তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসুক সরদারকে তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলীর ছোট ভাই, যুবদল নেতা আলী আহমদ সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও ফসল রক্ষা বাঁধ, সড়ক ও সরকারি ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাসুক সরদার দীর্ঘদিন ধরে যাদুকাটা নদীর পাড় কাটা এবং ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে নদী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, লাউড়েরগড়-ডালারপাড় এলাকার জামালের চরে প্রতিদিন রাতে তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। তাদের দাবি, মাসুক সরদারের পেছনে অদৃশ্য একটি শক্তি রয়েছে, যার কারণে প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নদীপাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তাহিরপুরে মাসুক সরদারের প্রভাবশালী একটি মহলের সমর্থন রয়েছে। তাদের কারণেই তিনি যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে এবং ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।